শাল্লায় বাঁধের কাজ শেষ হয়নি ক্ষুব্ধ ডিসি

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

জেলার শাল্লায় এখনও শেষ হয়নি হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ। বাঁধে নামমাত্র মাটি ফেলা হলেও শেষ করা হয়নি দুরমুজ দেওয়া, স্লোপ তৈরি (ঢালু) ও ঘাস লাগানো। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আবদুল আহাদ গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর শাল্লার কালীকোটা হাওরের ২০টি প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন করে এ পরিস্থিতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বাঁধ পরিদর্শনকালে ডিসি কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি ও সদস্য সচিবসহ সংশ্নিষ্ট কাউকে পাননি। এ সময় ৪৬ নম্বর প্রকল্পের একজন সদস্যকে বাঁধে পেয়ে আটক করেন তিনি। তবে আটক মিজানুর রহমান জানান, তিনি নামমাত্র পিআইসির সদস্য। বাঁধের কাজের বিষয়ে সভাপতি-সদস্য সচিব তাকে কিছুই জানাননি। তার কোনো মতামতও নেওয়া হয়নি।

ডিসি মোহাম্মদ আবদুল আহাদ হেঁটে কালীকোটা হাওরের প্রায় ১৭ কিলোমিটার এলাকার ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫ ও ৬৬ নম্বর প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি দেখতে পান বাঁধের বিভিন্ন অংশে সঠিকভাবে দুরমুজ দেওয়া ও ঘাস লাগানো হয়নি। তিনি সংশ্নিষ্ট তদারককারী কর্মকর্তাদের দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। বাঁধ পরিদর্শনকালে ডিসির সঙ্গে ছিলেন শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল-মুক্তাদির হোসেন, কৃষক নেতা মুক্তিযোদ্ধা অমরচাঁদ দাস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) শাখা কর্মকর্তা শমসের আলী মন্টু, শাল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি পিসি দাস পীযূষসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।

পিআইসি সভাপতি ও সদস্য সচিব আটক :হাওর রক্ষা বাঁধের কাজে গাফিলতি করায় শাল্লায় একটি পিআইসির সভাপতি সুধীর রঞ্জন দাস ও সদস্য সচিব রতন চন্দ্র দাসকে আটক করা হয়। ডিসির নির্দেশে গতকাল দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিল আহমদ তাদের আটক করেন। সন্ধ্যা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ দু'জনকে ইউএনও কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছে।