দুই যুবলীগ নেতা হত্যা আটকে গেল সাবেক এমপি রানার জামিন

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় জামিন পেলেও দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় পাওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত হয়েছে সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার। বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় রানার জামিন দেন। তবে যুবলীগের দুই নেতা শামীম ও মামুন হত্যা মামলায় গত ৬ মার্চ তাকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

হাইকোর্টে রানার জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ। আদেশের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের জানান, মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় আমানুর রহমান রানাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে আপিল করা হবে। এ ছাড়া যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় গত ৬ মার্চ হাইকোর্ট রানাকে যে জামিন দিয়েছিলেন, গতকাল চেম্বার আদালত তা স্থগিত করে দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকায় নিজ বাসার কাছে জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহম্মেদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার তিন দিন পর ফারুকের স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে এ মামলায় এমপি রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনকে আসামি করে ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। একই বছরের ৬ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেন আদালত। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন রানা। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত বছরের ১৬ জানুয়ারি রানা ও তার তিন ভাইকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার করা হয়। আটক হওয়ার পর আড়াই বছরে তিনি কয়েক দফা হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি নিয়ে তা বাতিল করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

অন্যদিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুন ২০১২ সালের ১৬ জুলাই তাদের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে টাঙ্গাইল শহরে এসে নিখোঁজ হন। ঘটনার পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন।