বাপার আলোচনা সভায় বক্তারা নদী দখলের দৃশ্য যেন আর দেখতে না হয়

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

সরকারের উচিত দেশের সকল নদী দখলদারকে দ্রুত উচ্ছেদ করা। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া। সরকার বর্তমানে নদীর দু'পাড়ের যে অবৈধ উচ্ছেদ পরিচালনা করছে তা যেন মাঝপথে থেমে না যায়। একইসঙ্গে উচ্ছেদ ও দখল দুই কার্যক্রমের দৃশ্য আর যেন না দেখতে হয়।

গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে 'ঢাকার চারপাশের চলমান নদী দখলদার উচ্ছেদ কার্যক্রম বিষয়ে নাগরিক পর্যবেক্ষণ' বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাপার সহসভাপতি, লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আবদুল মতিন এবং বাপার নির্বাহী কমিটির সদস্য শারমীন মুরশিদ, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল।

বক্তারা আরও বলেন, সঠিকভাবে নদীর সীমানা চিহ্নিত না করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করার মাধ্যমে দখলদারদের বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সীমানা পিলার সঠিক স্থানে

বসাতে হবে ও সকল দখলদার উচ্ছেদ করতে হবে।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বাংলাদেশের নদ-নদীর ওপর যে আক্রমণ তা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের নদীর ওপর হয় না।

ডা. মো. আবদুল মতিন বলেন, বেশ কয়বার ঢাকার চারদিকের নদীর পাড় দখলমুক্ত করার অভিযান চালানো হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই তা আবার দখল হয়েছে।

শারমীন মুরশিদ বলেন, মাঝে মধ্যে দেখা যায় নদীতে তড়িঘড়ি করে ড্রেজিং করা হয়। এর ফলে ভালো করতে গিয়ে খারাপ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং ড্রেজিং করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।

শরীফ জামিল তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, নদীমাতৃক এই দেশের নদী সংরক্ষণ ও উন্নয়ন দেশের টিকে থাকা ও অগ্রগতির প্রধানতম পূর্বশর্ত। কিন্তু একেকটি নদীর সঙ্গে যুক্ত ছোট নদী, খাল, প্লাবন অঞ্চল ও অন্যান্য জলাশয় বিলীন হতে চলেছে।

বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে চার স্থানে মানববন্ধন :পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেছেন, নদী দখলকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সারাদেশে নদী দখল অভিযান চলবে।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে 'স্বতন্ত্র নদী আইন ও নদী আদালত গঠন' দাবিতে মানববন্ধন ও নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে ঢাকার আরও তিন স্থান টঙ্গী ব্রিজ, সদরঘাট ও আমিন বাজারের তুরাগ ব্রিজে একযোগে মানববন্ধন ও নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার সাদত। বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন, হাজী মো. মাসুদ খান, ডা. সিরাজুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা মো. বাচ্চু মিয়া, প্রভাষক নাজমুল হোসেন প্রমুখ।

টঙ্গী ব্রিজে বক্তব্য দেন কালিমুল্লাহ ইকবাল, মুক্তিযোদ্ধা কাজী মোজাম্মেল, ছানাউল্লাহ, গিয়াস উদ্দিন সরকার, রাখী সরদার, প্রিন্সিপাল শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

সদরঘাটে বক্তব্য দেন মো. তাজুল ইসলাম, ড. মোহসিন আলী মণ্ডল প্রিন্স, শামিম মোহাম্মদ, হাসিবুল হক পুনম, আবিদ হাসান বুলবুল প্রমুখ।

আমিনবাজারে তুরাগ ব্রিজে বক্তব্য দেন মো. বসির উদ্দিন, মাহবুব সিদ্দিকী, আমিনবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।