ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা আইনে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ২৮ সেবা

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

মিরাজ শামস

এখন বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে হয়রানি ও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ভোক্তারা। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে নানা বিষয়ে আইনের সংশোধন প্রস্তাব করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি)। বিশেষ করে বাড়ি ভাড়া, কোচিং বাণিজ্য, মোবাইল ব্যাংকিংসহ আরও ২৮ সেবা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে সংশোধিত আইনে। এই সেবা নিশ্চিত করতে আইন বাস্তবায়ন হলে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা দ্বন্দ্বের অবসান হবে এবং বিভিন্ন সেবায় বঞ্চিত হওয়ার হাত থেকে প্রতিকার পাবেন ভোক্তারা।

আজ ১৫ মার্চ বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস। দিবসের প্রতিপাদ্য 'নিরাপদ মানসম্মত পণ্য'। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি পৃথক বাণী দিয়েছেন। ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় দেশে গত ১০ বছরে নানা পণ্য ও সেবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে ডিএনসিআরপি। এর পরও অনেক পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে প্রতারণা, হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ভোক্তারা। এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ করা হলেও আইনে না থাকায় কোনো প্রতিকার পাননি ভোক্তারা। এ বিষয়গুলো নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে ডিএনসিআরপি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী, বর্তমানে ১০টি সেবার ক্ষেত্রে ভোক্তাদের সুরক্ষায় কাজ করছে ডিএনসিআরপি। এসব সেবা হচ্ছে পরিবহন, টেলিযোগাযোগ, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিস্কাশন, জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, নির্মাণ, আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও স্বাস্থ্যসেবা। সংশোধিত আইন পাস হলে মোট ৩৮টি সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পাবে ডিএনসিআরপি। নতুন করে যেসব সেবা আইনে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে এর মধ্যে বাড়ি ভাড়াসহ আবাসন, কোচিংসহ শিক্ষা, মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্স্যুরেন্স, পাসপোর্ট, নিবন্ধন, লাইসেন্স, টেইলারিং, বিউটি পার্লার ও সেলুন, জুয়েলারি, ভূমি, হজ, রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি, কুরিয়ার সার্ভিস, কর্মসংস্থান (বৈদেশিকসহ), ডে-কেয়ার সেন্টার, বিনোদন কেন্দ্র, লন্ড্রি, ইন্টারনেট, অনলাইন, কেবল অপারেটরস, তথ্য ও প্রযুক্তি, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং, অটোমোবাইল এবং সময়ে সময়ে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত অন্য সেবা। বর্তমানে বাড়ি ভাড়া নিয়ে ভাড়াটিয়াদের অনেক ক্ষোভ ও ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বাড়িওয়ালাদেরও নানা অভিযোগ আছে। আইনে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হলে এ দ্বন্দ্ব নিষ্পত্তি করতে পারবে ডিএনসিআরপি।

এ ছাড়া আইনের খসড়ায় নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অবৈধ বা নিষিদ্ধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণ। লাইসেন্স ছাড়া পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি এবং সেবা দেওয়া যাবে না। এসব ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিতে পারবে অধিদপ্তর। এসব বিষয় ছাড়া আরও অনেক খাতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

ডিএনসিআরপির মহাপরিচালক শফিকুল ইসলাম লস্কর সমকালকে বলেন, অনেক সেবা সঠিকভাবে পাচ্ছেন না ভোক্তারা। নানা সেবার ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়ে অধিদপ্তরে অনেক অভিযোগ দেন ভোক্তারা। এসব বিষয়ে বর্তমানে আইনও নেই। এ কারণে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না। এ জন্য সংশোধিত আইনের খসড়ায় নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যাতে ভোক্তারা সঠিক সেবা পান। ১০ বছরের পুরনো এই আইনের সংশোধনের জন্য তৈরি খসড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে

বলে তিনি জানান।

বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবসে ডিএনসিআরপি ও কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) যৌথভাবে কর্মসূচি আয়োজন করেছে। দিবস উপলক্ষে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেমিনার, র‌্যালিসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন রয়েছে।

ডিএনসিআরপি সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে দেশব্যাপী চার হাজারের বেশি বাজারে অভিযান পরিচালনা করে সংস্থাটি। এতে ১২ হাজার ৩০০ প্রতিষ্ঠানকে নানা অপরাধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে প্রায় ৯ কোটি টাকা জরিমানা আদায় হয়। গত ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানটির সাড়ে ১৫ হাজারের বেশি বাজার অভিযানে প্রায় ৬০ হাজার প্রতিষ্ঠান দণ্ডিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৩ কোটি টাকার বেশি জরিমানা আদায় হয়। এ ছাড়া অধিদপ্তরে সরাসরি ২১ হাজার ৮০০ অভিযোগ দেন প্রতারিত ভোক্তারা। চলতি বছরেই সাড়ে ৫ হাজারের বেশি অভিযোগ দেন তারা। এর মধ্যে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে ২ হাজার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় নিষ্পত্তি হয়নি। অন্য অভিযোগ বেশিরভাগই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অধিদপ্তর অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে। এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।