সংবাদ সম্মেলনে রোকেয়া হল প্রাধ্যক্ষ পুনরায় নির্বাচন দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের দিন রোকেয়া হলে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে 'সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদা। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমকর্মী ও প্রার্থীদের ব্যালট বাক্স দেখিয়েই নির্বাচন শুরু করা হয়েছিল। ফলে নির্বাচনে অনিয়ম-সংক্রান্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। অনশনরত শিক্ষার্থীদের হলে পুনর্নির্বাচনের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এই এখতিয়ার আমার হাতে নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে রোকেয়া হল সংসদ নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থ্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময়ে হল সংসদ নির্বাচনে আলোচিত তিনটি ব্যালট বাক্স সেখানে হাজির করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের দিন হলের পরিস্থিতি বর্ণনা করেন রোকেয়া হলের হাউস টিউটর দিল আরা জাহান। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদা। এ সময় হলের হাউস টিউটররা উপস্থিত ছিলেন। তিনটি ব্যালট বাক্স ভোটকেন্দ্রের বাইরে পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জিনাত হুদা বলেন, বাক্সগুলো ভোটকেন্দ্রের বাইরে ছিল না। সেগুলো যেখানে পাওয়া গিয়েছিল (অডিটরিয়ামে), সেটাও ভোটকেন্দ্রের অংশ। ভেতরের ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়ার পর সেগুলো ব্যবহারের জন্য সেখানে রাখা হয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলার ব্যাপারে তিনি জানান, প্রাধ্যক্ষ হিসেবে কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেননি। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা কেউ তার কাছে আসেওনি। তা ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিস্কারাদেশও দেওয়া হয়নি। শুধু অনশনকারীদের জানানো হয়েছে, পুনর্নির্বাচন দেওয়ার এখতিয়ার কোনো প্রাধ্যক্ষের নেই।

অনশনরত ছাত্রীদের সঙ্গে কেন দেখা করেননি- জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ বলেন, ওদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। কথা বলার জন্যও ডেকেছি। ওরা আসেনি। তবে ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রক্টরিয়াল টিম রয়েছে। আবাসিক শিক্ষকদের পাঠানো হয়েছে। তার পদত্যাগের দাবির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদা প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান।

ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সময় রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেত্রী মারজুকা রায়না বাদী হয়ে গত সোমবার মামলাটি করেন।

পরে চার দফা দাবিতে অনশনে বসেন রোকেয়া হলের পাঁচ ছাত্রী। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- ডাকসু ও হল সংসদে পুনর্নির্বাচন, হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অনশনে বসা চারজন ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন পদে প্রার্থী ছিলেন।