সবজির বাদ্যযন্ত্র

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

রমজান আলী

স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য খাদ্য তালিকায় বেশি পরিমাণে সবজি রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। উপাদেয় খাবার হিসেবে অনেকেরই পছন্দ নানা ধরনের সবজি। তবে সবজি দিয়ে বাদ্যযন্ত্র তৈরি ও তা দিয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করা হলে তা নিশ্চিতভাবেই বিস্ময় জাগাবে। আর গত ২১ বছর ধরে এই কাজটিই করে আসছে ভিয়েনার ভেজিটেবল অর্কেস্ট্রা। বিশ্বজুড়ে তিন শতাধিক শো করেছেন তারা।

কয়েকদিন আগেই নিজেদের চতুর্থ অ্যালবাম প্রকাশ করেছে দলটি। ধ্রুপদী থেকে শুরু করে আধুনিক, সব ধরনের সঙ্গীতই সবজির বাদ্যযন্ত্রে পরিবেশন

করতে সমান পারদর্শী তারা। ১০ সদস্যের এই দলের সদস্যদের কেউ ঔপন্যাসিক, কেউ স্থপতি, আবার কেউবা ডিজাইনার।

সাধারণ বাদ্যযন্ত্রের মতো সবজির বাদ্যযন্ত্রগুলো বছরের পর বছর টিকে থাকে না। এগুলো খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে প্রত্যেক শোয়ের আগে তাদের নতুন করে যন্ত্র তৈরি করতে হয়। এ জন্য শোয়ের দিন সকালে সবাই মিলে বাজারে যান। তালিকা ধরে কেনেন নানা ধরনের সবজি। ওই সময় সবজির মানের দিকে খুবই কড়া নজর রাখতে হয়। কারণ চাহিদামতো সবজিটি না পেলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রও তৈরি করা যাবে না। এরপর চাছা-ছোলা করা, চাকু দিয়ে কাটা ও ড্রিল দিয়ে ফুটো করে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র তৈরি করেন শিল্পীরা। তাদের হাতে গাজর, শসা, ও লাউ থেকে তৈরি হয় বাঁশি ও ট্রোমবোনস। শালগম আর কুমড়ো হয়ে ওঠে বঙ্গো ও ড্রামস। দলের প্রত্যেক শিল্পী ৮ থেকে ২৫টি যন্ত্র তৈরি করেন। যন্ত্র তৈরি করার পর থেকে যাওয়া সবজি দিয়ে স্যুপ তৈরি করে শো শেষে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের খেতে দেওয়া হয়।

দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ম্যাথিস মেইনহার্টার বলেন, মজা করতেই প্রথমে তারা এটা শুরু করেছিলেন। অর্কেস্ট্রা দলে গাজরের পিয়ানো, মুলার বাঁশিসহ আর বেশকিছু যন্ত্রের বাদক সুসানা গার্টমায়ের বলেন, সবজি থেকে তৈরি করা দুটি জিনিস কখনও এক রকম হবে না। এটাই চ্যালেঞ্জের বিষয়।

২১ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবজির সঙ্গীতায়নের মাধ্যমে ইতিমধ্যে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লিখিয়েছে দলটি। সূত্র : বিবিসি।