বইয়ের ভাস্কর্য

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

রথো রাফি

বই আমরা পড়ি। পড়তে গিয়ে একে স্পর্শ করি। এর মধ্য দিয়ে বইয়ের সঙ্গে আমাদের অজান্তেই এক নিবিড় আত্মীয়তা গড়ে ওঠে। একে ঘিরে কাজ করে আবেগ ও স্মৃতিকাতরতা। কিন্তু আজকের দিনে অনেকের সঙ্গেই দূরত্ব তৈরি হচ্ছে বইয়ের। নতুন প্রজন্ম ঝুঁকছে অনলাইনে। সেখানে তারা যখন কিছু পড়তে থাকে, তাদের আঙুল আর কাগজের ছোঁয়া পায় না; পায় কি-বোর্ড বা মাউস কিংবা টাচস্ট্ক্রিনের ছোঁয়া। ফলে বই ঘিরে কিছুদিন আগেও মানুষের যে বিপুল ভালোবাসা কাজ করত, তা যেন নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে একটু একটু করে হালকা হয়ে আসছে। বইপ্রেমী ইতালীয় শিল্পী পাওলা গ্রিজির মনে এই বাস্তবতা

হয়তো বিপুল ছাপ রেখে গেছে। তিনি কল্পনা করেন, একদিন বইয়ের যুগের অবসান হয়ে যাবে। তখন মানুষের কাছে বইয়ের ধারণা, একে ঘিরে এক সময়ের আবেগ-অনুভূতি কীভাবে পৌঁছে দেওয়া যাবে- এমন একটা আবছা প্রশ্ন দীর্ঘদিন তাড়া করেছে তার শিল্প কল্পনাকে। বইয়ের প্রতি ওই নিবিড় আবেগ ও কল্পনাকেই এর পর দীর্ঘদিন ধরে ফুটিয়ে তুলতে লাগলেন পাওলা গ্রিজি একের পর এক গ্রন্থ ভাস্কর্যে। তবে তিনি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, যুক্তিগত চিন্তার ধারাবাহিকতা থেকে নয়, আকস্মিক আবেগ থেকেই বইকে অবলম্বন করেছিলেন ভাস্কর্যের উপাদান হিসেবে। আর ফলটাও তাকে অভিভূত করেছিল।

তার শিল্পকর্ম দেখে অনেকের মনে হবে, এমন দিন যদি আসে যে, বইয়ের যুগ বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তখনও তার ভাস্কর্য মানুষের গ্রন্থপ্রীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। আমরা যখন একটা গল্প পড়ি, তখন ওই গল্পের কোনো চরিত্রের মুখটাও কল্পনা করি। সেই চরিত্রের মুখটা কখনও বিষণ্ণ, কখনও দৃঢ় কিংবা কখনও ক্রুদ্ধ বা মৃদ হাসি নিয়ে কল্পনায় ভেসে উঠতে দেখি। এই শিল্পীর ভাস্কর্যেও এসব অনুভূতি উদ্ভাসিত হয়ে আছে। সূত্র :মাইমডার্নমেটডটকম।