মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন

পলাশ ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে বাংলাদেশ বিমানের 'ময়ূরপঙ্খী' উড়োজাহাজ ছিনতাইচেষ্টার ঘটনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি। বুধবার দেওয়া ওই প্রতিবেদনে উড়োজাহাজটি ছিনতাই চেষ্টাকারী যুবক পলাশ আহমেদকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পলাশ যে অস্ত্র নিয়ে উড়োজাহাজটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছিল, তাও ছিল প্লাস্টিকের তৈরি খেলনা পিস্তল।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোকাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে একগুচ্ছ সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরে কর্তব্যরত সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ড সমন্বয় করার জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়ন করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া শাহজালালসহ দেশের সব বিমানবন্দরের ভেতরে স্থাপিত ব্যক্তিমালিকানাধীন যেসব দোকান নিরাপত্তার জন্য হুমকি, সেগুলো অপসারণের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। শাহজালাল বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে স্থাপিত বেশ কিছু দোকানকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ ছাড়া সব বিমানবন্দরে কর্তব্যরত আর্চওয়ে অপারেটর, লাগেজ স্ক্যানিং অপারেটররা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যেন সব সময় সজাগ থাকে এ ব্যাপারে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিমানবন্দরগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোরও সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তদন্তে শাহজালাল বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপিত আর্চওয়ে এবং লাগেজ স্ক্যানার মেশিনে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক জানান, তদন্ত প্রতিবেদন তিনি হাতে পেয়েছেন। তবে এতে কী আছে দেখে পরে গণমাধ্যমকে জানানো হবে। 

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি উড়োজাহাজ 'ময়ূরপঙ্খী' ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের

পরপরই যাত্রী পলাশ ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। বিমানটি দুবাই যাচ্ছিল। পরে পাইলট এটিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান। সেখানে কমান্ডো অভিযানে পলাশ নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিমান ছিনতাইয়ের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার অবসান হয়। এ ঘটনার পরই আলোচনায় আসে শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা। পিস্তল নিয়ে

কী করে একজন যাত্রী বিমানে উঠল বিভিন্ন মহল থেকে এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন আসে। এ অবস্থার মধ্যেই বিমান মন্ত্রণালয় পুরো ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করে। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষও অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান চালায়। এর পরই সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ছয়জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।

এদিকে, বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক বুধবার শাহজালাল বিমানবন্দর পরিদর্শন করে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে স্থাপিত ব্যক্তিমালিকানাধীন যেসব দোকান নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তা উচ্ছেদ করার নির্দেশ দিয়েছেন।