মেজর জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

১৫ জনকে অব্যাহতি

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

আদালত প্রতিবেদক

দীর্ঘ চার বছর তদন্তের পর ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের নেতা মেজর জিয়াসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ১৫ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ারও আবেদন করেছেন এই কর্মকর্তা। ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে বিচারক সরাফুজ্জামান আনছারী 'দেখিলাম' লিখে স্বাক্ষর করেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২৫ মার্চ।

অভিযুক্ত আসামিরা হলো- জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়া (চাকরিচ্যুত মেজর), তার সাংগঠনিক নাম সাগর, বড় ভাই; মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ, আকরাম হোসেন ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে হাসিবুল ওরফে আব্দুল্লাহ ও উগ্রপন্থি ব্লগার শাফিউর রহমান ফারাবী। আসামিদের মধ্যে মেজর জিয়া ও আকরাম হোসেন পলাতক। ফারাবী অভিজিৎকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে উস্কানি দেয়।

আদালত সূত্র জানায়, ছয় জঙ্গিকে অভিযুক্ত করা হলেও ১৫ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। মামলাটিতে অভিজিতের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাসহ ৩৪ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। অব্যাহতিপ্রাপ্ত আসামিরা হলো- সাদেক আলী ওরফে মিঠু, মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান, আমিনুল মল্লিক, জাফরান হাসান, জুলহাস বিশ্বাস, আব্দুর সবুর

ওরফে রাজু সাদ, মাইনুল হাসান শামীম, মান্না ইয়াহিয়া ওরফে মান্নান রাহি, আবুল বাশার, মুকুল রানা, সেলিম, হাসান, আলী ওরফে খলিল, অনিক ও অন্তু।

তাদের মধ্যে আসামি সাদেক আলী ওরফে মিঠু, মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান, আমিনুল মল্লিক, জাফরান হাসান, জুলহাস বিশ্বাস, আব্দুর সবুর ওরফে রাজু সাদ ও মাইনুল হাসান শামীমের বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। আর মান্না ইয়াহিয়া ওরফে মান্নান রাহি ও আবুল বাশার চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যায়। মুকুল রানা খিলগাঁও এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় অন্য পাঁচ আসামি সেলিম, হাসান, আলী ওরফে খলিল, অনিক ও অন্তুর অব্যাহতির আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

চার বছর তদন্তের পর আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের নেতা জিয়ার নির্দেশেই অভিজিতের ওপর হামলা হয়। জিয়ার নির্দেশ ছিল, একুশে বইমেলাতেই তাকে হত্যা করতে হবে।

আসামিদের মধ্যে গ্রেফতার আবু সিদ্দিক সোহেল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ওই জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা থেকে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে অভিযোগপত্রে। সোহেল জবানবন্দিতে বলে, ২০১৪ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগ দেওয়ার পর মেজর জিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে জিয়া ও আকরাম হোসেন ওরফে আবির তাকে প্রশিক্ষণ দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সোহেল, সায়মন, আবির ও হাসান ২৬ ফেব্রুয়ারি টিএসসি মোড়ে অবস্থান নেয় ও আনসার আল ইসলামের অপারেশন শাখার নেতা মুকুল রানাকে খবর দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিজিৎ ও তার স্ত্রী বইমেলা থেকে বেরিয়ে টিএসসির উত্তর-পূর্ব পাশে গেলে জঙ্গিরা তাকে কোপানো শুরু করে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিজিৎকে প্রথম কোপ দেয় খলিল ও অনিক। পরে আরাফাত ও অন্তুও যোগ দেয়। একজন রিকশাচালক এগিয়ে এলে তাকে চাপাতি দিয়ে ভয় দেখায় অনিক। হত্যাকাণ্ড শেষে যাতে সবাই পালিয়ে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করতে জিয়া, সেলিম, আবির, হাসান ও সায়মনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে সন্ত্রাসীরা অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে। আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অভিজিৎ। ওই ঘটনায় ২৭ ফেব্রুয়ারি অভিজিতের বাবা অজয় রায় শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।