লিঙ্গ সমতায় অবদান

জাতিসংঘের সম্মাননা পেলেন তিন নারী

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

উদ্ভাবনী কাজের মাধ্যমে সমাজে লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘ সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের তিন নারী। সামাজিক প্রথা, নারীর গৎবাঁধা জীবন ও সামাজিক বাধা মোকাবেলা করে সফল সমাজ উন্নয়ন কর্মী, উদ্যোক্তা ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অন্যদের ক্ষমতায়নের সুযোগ করে দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হলো।

সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন- পুষ্পা খাতুন, পারভীন আক্তার ও নাসিমা আক্তার। গতকাল ঢাকায় জাতিসংঘের সংশ্নিষ্ট তিন অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাত থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন তারা। এই তিন প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), ইউএন উইমেন ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)।

এ উপলক্ষে রাজধানীর গুলশানে হোটেল আমারিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করা হয়। এতে বলা হয়, বগুড়ায় ইউএনএফপিএ সমর্থিত নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির একজন কর্মী হিসেবে পুষ্পা খাতুন

নিজেরসহ মোট ১৩টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে সমর্থ হন। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার ৮ নারীকেও সহযোগিতা দেন তিনি। পারভীন আক্তারের বিষয়ে বলা হয়, স্কুলে ছাত্রী থাকাকালে জোরপূর্বক বাল্যবিয়ের শিকার পারভীন প্রশিক্ষণ এবং ব্যবসার পরিকল্পনা করেন। ব্যাংক থেকে কিছু ঋণও পান। এখন তিনি একটি ছোট পোশাক কারখানার মালিক। এখানে তিনি অনেক নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। কারখানায় তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশও তৈরি করেছেন পারভীন আক্তার। অন্যদিকে নাসিমা আক্তার সম্পর্কে বলা হয়, বিদেশ থেকে অসহায়ভাবে ফেরত আসা নাসিমা আক্তার ইলেকট্রনিক্স কাজের প্রশিক্ষণ নেন। দক্ষতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ শেষে এখন তিনি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মাননিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা। সাধারণত এ ধরনের কাজে নারীর অংশগ্রহণ নেই।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পোটিআইনেন বলেন, মানসম্পন্ন শিক্ষা অর্জন এবং শোভন কাজের জন্য নারীদের বহুমুখী সমস্যায় পড়তে হয়। এ কারণে বাংলাদেশের ৩ কোটি ১০ লাখ নারীর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউএন উইম্যানের কান্ট্রি প্রতিনিধি শোকো ইসিকাওয়া, ইউএনএফপিএর কান্ট্রি প্রতিনিধি ড. আশা টোরকিলসন, মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক, গবেষণা সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সেলিম রায়হান প্রমুখ।