ধুঁকছে কিশোরগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী ১৫ হাজার লোকের কাজের সুযোগ নষ্ট হচ্ছে

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ

গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় ধুঁকে ধুঁকে চলছে কিশোরগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী। তবে চিহ্নিত সমস্যাগুলো দূর করে পুরোদমে উৎপাদনে গেলে এখানে সহজেই ১৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বিরাট এই সুযোগ নষ্ট হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ শহরের অদূরে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ-কাপাসিয়া-ঢাকা সড়কের মারিয়া এলাকায় ২০ একর জায়গার ওপর সরকারি উদ্যোগে ১৯৮৭ সালে কিশোরগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য ৩২ বছরেও বিসিকের এই শিল্পনগরী পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।

বিসিকের এই শিল্পনগরীতে সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, এখানে ১৫০টি প্লট রয়েছে। যার মধ্যে ১০টি এখনও খালি পড়ে আছে। বরাদ্দ দেওয়া ৬৪টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে উৎপাদনে রয়েছে মাত্র ২৯টি। এগুলোও গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও ড্রেনেজ সমস্যার কারণে ধুঁকছে। কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় অন্য শিল্পোদ্যোক্তারাও এখানে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সাহস পাচ্ছেন না। অথচ ওই সময় শতকপ্রতি মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে কেনা জমির দাম এখন লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

বিসিক সূত্রে জানা গেছে, ৬৪টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে ২৯টি উৎপাদনে থাকলেও ৩৫টি ইউনিট এখনও উৎপাদনে যেতে পারেনি। এর মধ্যে নির্মাণ কাজ শুরুই হয়নি ৯টির। এ ছাড়া বন্ধ বা রুগ্‌ণ অবস্থায় রয়েছে ছয়টি ইউনিট। সাতটি নির্মাণাধীন আর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও উৎপাদনে যায়নি ১১টি এবং মামলা রয়েছে দুটির।

সংশ্নিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তারা জানান, সরকার থেকে সঠিক পদক্ষেপ নিলেই পুরোদমে চালু হবে এই শিল্পনগরী।

এটি হলে ১৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। কিশোরগঞ্জে বেকারত্ব দূর করার প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠবে এই শিল্পনগরী।

কিশোরগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী মালিক সমিতির সভাপতি ও এম এম খান ফুডসের স্বত্বাধিকারী আজমল খান রুমেল জানান, কিশোরগঞ্জে শিল্পোদ্যোক্তার অভাব নেই। অভাব হলো ভালো পরিবেশের। সমস্যাগুলো দূর করে শিল্পনগরীতে সব সুবিধা নিশ্চিত করলে উদ্যোক্তারা অবশ্যই বিনিয়োগ করবেন। আজমল খান আরও বলেন, বিসিক শিল্পনগরীতে

নানা সমস্যার সম্মখীন হচ্ছেন তিনি। গ্যাস সংযোগের জটিলতার কারণে উৎপাদন খরচ বেশি হয়। ত্রুটিপূর্ণ ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে সমস্যা হয়। পল্লীবিদ্যুতের সংযোগ থাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধাও পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিসিকে স্থাপিত মানরী টেক্সটাইল মিলসে তৈরি হয় টেরি-টাওয়েল। মালিক মাহফুজুর রহমান জানান, সারাদেশে তার মিলের উৎপাদিত টাওয়েলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তিনি ২৫০ জনকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। গ্যাস সংযোগ না থাকায় পুরোপুরি উৎপাদনে যাওয়া যাচ্ছে না। পুরোদমে চালু করা গেলে ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ভার্গো ফ্যাশনের দায়িত্বে থাকা আবুল হাসেম জানান, তারা গ্যাসের কারণে এখনও উৎপাদনে যেতে পারছেন না। তাদেরও পাঁচ শতাধিক শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। পূবালী ফ্লাওয়ার মিলসের মালিক আবদুল হেকিম জানান, তার মিলের উৎপাদিত ময়দা সারাদেশে সমাদৃত। তার মিলটি পুরোদমে চালু করলে কয়েকশ' শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে।

কিশোরগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীর সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আরও কথা হয় সেখানকার মেসার্স ইস্টবেঙ্গল ল্যাবরেটরিজের স্বত্বাধিকারী এ কে এম সালেক, মেসার্স ক্রিসেন্ট স্টিল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়ার সঙ্গে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিগগিরই শিল্প নগরীর সীমানাপ্রাচীর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। মাদকাসক্ত ও মাস্তানদের উৎপাত বন্ধে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি খুবই প্রয়োজন।

কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মুজিবুর রহমান বেলাল জানান, সরকার যদি এই শিল্পনগরীর দিকে সঠিকভাবে নজর দেয়, তাহলে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের স্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে।

কিশোরগঞ্জ বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) কামরুল আহসান জানান, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে শিল্পোদ্যোক্তরা উৎপাদনে যেতে পারছেন না। তবে এসব সমস্যা শিগগিরই দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।