তানোরে সহিংসতার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দুই প্রার্থীর

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর তানোরে উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কর্মী-সমর্থকদের মারধর ও ভয় দেখানোর অভিযোগ করেছেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না। গত বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান ময়নার বিরুদ্ধেও প্রায় একই অভিযোগ করে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন পরাজিত প্রার্থী শরিফুল।

তানোর উপজেলা যুবলীগ ও কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি শরিফুল ইসলাম গত ১০ মার্চের উপজেলা

নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে হাতুড়ি মার্কায় অংশ নেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নৌকা প্রতীকের লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না। শরিফুল উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মুণ্ডুমালা পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানীর ভাই আর ময়না সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর আত্মীয়। নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে জয়লাভ করেন ময়না। তারপর থেকেই একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছেন তারা।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না বলেন, শরিফুল ইসলাম দলের মনোনয়ন না পেয়ে ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে হাতুড়ি মার্কায় নির্বাচন করেন। ভোটে পরাজিত হয়ে তিনি নৌকার সমর্থকদের ওপর নির্যাতন শুরু করেছেন। শরিফুলের লোকজনের হামলায় আওয়ামী লীগের অন্তত ২০ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে আহতদের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। ময়নার অভিযোগ, শরিফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা হওয়ার পরও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার ইন্ধনে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এসব কাজে শরিফুলের বড় ভাই ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীও জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে শরিফুল ইসলাম জানান, ৪৪ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার পরও তাকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এ জন্য ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ফজলে হোসেন বাদশার কাছ থেকে তার দলের মনোনয়ন নেন। ভোটের ফলাফলে সাড়ে ৩০০ ভোটে তাকে পরাজিত দেখানো হয়েছে। এরপর থেকে তার সমর্থকদের ওপরও নির্যাতন শুরু করেছে নৌকার প্রার্থী ময়নার লোকজন। বিষয়টি নিয়ে তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।

তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম রাব্বানী বলেন, এই নির্বাচনে তিনি কারও পক্ষে ভোট চাননি। কিন্তু মানুষ জানে শরিফুল তার ভাই। এ জন্য তিনি অনেক ভোট পেয়েছেন। তবে ভাইয়ের সহিংসতার অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাম রাব্বানী বলেন, শরিফুল ভোটের পরই রাজশাহী চলে গেছে। ময়নার লোকজনই শরিফুলের সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।