কিশোরগঞ্জে বিদ্রোহীদের চ্যালেঞ্জের মুখে আ'লীগ প্রার্থীরা

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

কিশোরগঞ্জ অফিস

কিশোরগঞ্জের ১২ উপজেলা নির্বাচনের মধ্যে পাঁচটিতে কিছুটা উত্তাপ ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও অন্য দলের প্রার্থীরা। তাদের কেউ কেউ নির্বাচনী মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ভোটারসহ সাধারণ মানুষ জানতে পারছেন, আগামী ২৪ মার্চ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী পাঁচজন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত সাকাউদ্দিন আহাম্মদ রাজন (নৌকা), সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী মামুন আল মাসুদ খান মামুন (কাপ-পিরিচ), এনপিপি প্রার্থী সুমন মিয়া (আম), বিএনপি নেত্রী (সদ্য বহিস্কৃত) কামরুন নাহার লুনা (দোয়াত-কলম)

এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় তথ্য সেলের সাবেক কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন আহমেদ সেলু (আনারস)।

হোসেনপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে তিন প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহ জাহান পারভেজ (নৌকা), বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ সোহেল (আনারস), এবং জাতীয় পার্টির আবদুল কাদির স্বপন (দোয়াত-কলম)। বিদ্রোহী প্রার্থী সোহেলের

নানা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী জানতে পারছে উপজেলা নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন।

কটিয়াদী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ছয় প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগের তানিয়া সুলতানা হ্যাপী (নৌকা), আওয়ামী লীগ নেতা আলী আকবর (দোয়াত-কলম), জাকের পার্টির প্রার্থী শহীদুজ্জামান স্বপন (গোলাপ ফুল), আলতাফ উদ্দীন (মোটরসাইকেল), ডা. মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান (ঘোড়া) ও আনোয়ার আনার (আনারস)।

কটিয়াদীতে বিদ্রোহী প্রার্থী আলী আকবর ও অন্যান্য প্রার্থীর মাইকিং প্রচারণায় ভোটারদের ঘুম ভাঙতে শুরু করেছে।

ভৈরব উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে তিন প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা সায়দুল্লাহ মিয়া (নৌকা), বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর (মোটরসাইকেল) ও অলিউল ইসলাম (আনারস)।

ইটনা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দুই প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগ প্রার্থী চৌধুরী কামরুল হাসান (নৌকা), বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান (আনারস)।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা জানান, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ও পদধারী নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দলীয় প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তাই নির্বাচনের ফল দলের পক্ষে আসবে- এমন নিশ্চয়তা নেই। পাশাপাশি কোনো কোনো উপজেলায় বিএনপি নেতারা প্রার্থী হওয়ায় ত্রিমুখী লড়াইয়ে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কিশোরগঞ্জের সদস্য ম.ম. জুয়েল জানান, উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মধ্যে কোনো আগ্রহ দেখতে পারছি না। তবে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতারা বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনে সামান্য উত্তাপ ছড়াচ্ছে। মাইকিং, পোস্টার, লিফলেটের কারণে নির্বাচন হচ্ছে, এটা মানুষ জানতে পেরেছে।