ভারসাম্যের রাজনীতির জন্য চাই সম্পদের সুষম বণ্টন

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

সম্পদের সুষম বণ্টন ছাড়া ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বিশিষ্ট আলোচকরা এ মত দিয়েছন। গতকাল বৃহস্পতিবার 'শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে পুনর্ভাবনা' শিরোনামে দিনব্যাপী এই গোলটেবিল আলোচনা চলে পিআরআইয়ের বনানী কার্যালয়ে। গণতন্ত্র, নির্বাচন, আইনের শাসন, সামরিক ব্যয়, বিশ্ববাজারে প্রবেশের অধিকার, সবার জন্য শিক্ষা-স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করা- নানা বিষয় নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দুটি সেশনে বিভক্ত আলোচনা পর্বে মূল বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোজবুশ প্রফেসর ইমেরিটাস ড. জিল্লুর আর খান।

আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বাংলাদেশের সাবেক বিকল্প গভর্নর এনাম আহমদ চৌধুরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. জিল্লুর আর খান, পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার, অধ্যাপক আহরার আহমদ, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, ড. আহসান এইচ মনসুর, ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন এবং সমকালের উপ-সম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত প্রমুখ।

এইচটি ইমাম দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স থাকবে। সব মিডিয়া সরকারের সমালোচনা করতে পারছে। আর আন্তর্জাতিক সব মানদণ্ড অনুযায়ী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন সঠিক হয়েছে।

জিল্লুর আর খান বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের সুষম বণ্টন। তা না হলে উন্নয়ন ভারসাম্যপূর্ণ হয় না। সবাই সুফল না পেলে সেটাকে সার্বিকভাবে উন্নয়ন হিসেবেও সংজ্ঞায়িত করা যায় না। ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে সামাজিক বৈষম্য দূর করার বিষয়টিতেও গুরুত্ব দিতে হবে।

তাসমিমা হোসেন নারীর এগিয়ে যাওয়া ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে সরকার প্রচুর টাকা খরচ করছে। এসব ব্যয় যথাযথ প্রক্রিয়ায় হচ্ছে কি-না, এর তদারকি দরকার।

এ সময় বক্তারা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিদ্যমান দ্বন্দ্ব দূর করে 'রাজনৈতিক ঐক্যের' ওপরও গুরুত্ব দেন। সাবেক সচিব সোহেল রহমান চৌধুরী কার্যকর গণতন্ত্রের ওপর গুরুত্ব দেন।

সমকালের উপ-সম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত বলেন, এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এই তৃণমূলে প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন। বাংলাদেশে শিক্ষার প্রসার ঘটেছে অভাবনীয় মাত্রায়। তবে পাঁচ কোটিরও বেশি ছাত্রছাত্রীর এ দেশে শিক্ষার মান বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।