পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাংস ও মুরগির দাম

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

দেশের বাজারে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাংস ও মুরগির দাম। সপ্তাহের

ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। এই দাম বৃদ্ধির ফলে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। আর গরুর মাংসের কেজি সর্বোচ্চ ৫৩০ টাকায় পৌঁছেছে। খাসির মাংস কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি সোনালি ও দেশি মুরগির দামও অনেক বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি হ্যচারিগুলোতে এক দিনের মুরগির বাচ্চার দাম অনেক বেড়েছে। এতে বাজারে মুরগি ও মাংসের দামও বেড়ে যাচ্ছে। মিরপুর ১নং বাজারের মুরগি বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের এই সময়ে খামারে নানা রোগবালাই দেখা দেয়। এ কারণে কম পরিমাণে মুরগি তোলেন খামারিরা। বর্তমানে বাজারে মুরগির সরবরাহ কমেছে। এ কারণে মুরগি বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

মাংস ও মুরগির পাশাপাশি ডিম, মাছ ও সবজির দামও বাড়তি। এর ফলে কাঁচাবাজারের ব্যয় বাড়াতে হচ্ছে ক্রেতাদের। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। এখন তা ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সুপার শপগুলোতে তুলনামূলক কম রয়েছে। খুচরা বাজারে এক কেজির কম ওজনের কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়। এই দর অন্য সময়ের চেয়ে ৫০ টাকা বেশি। বিক্রেতারা বলেন, এখন সামাজিক অনুষ্ঠান, বনভোজনসহ নানা আয়োজনের কারণে মুরগির চাহিদা বেশি। এই সময়ে বাজারে মুরগির সরবরাহ কম। বাড়তি চাহিদায় দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠান ভেদে বিভিন্ন হ্যাচারিতে একদিনের ব্রয়লার মুরগির প্রতিটি বাচ্চা ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দামে বাচ্চা কিনে খামারিদের আরও বেশি দামে বিক্রি করতে হবে। কিন্তু আগে কম দামে বাচ্চা কেনা থাকায় ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন এখন খামারিরা। সামনে পহেলা বৈশাখ ও পবিত্র শবেবরাত থাকায় আগে থেকেই বাজারে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ৫০০ থেকে ৫১০ টাকা কেজি গরুর মাংস দীর্ঘদিন। গত মাসে কেজিতে আরও ১০ টাকা বেড়েছিল। এখন ৫৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের দাম বেড়ে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা হয়েছে।

আগের সপ্তাহে বেড়েছে ফার্মের ডিমের দাম। গত সপ্তাহেও চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। এখন প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা দোকানে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা।

বাজারে শীতের সবজি প্রায় শেষ পর্যায়ে। গ্রীষ্ফ্মের সবজি এলেও দাম চড়া। করলা, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়শ, বরবটি প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ এবং বেগুন, পটোল, কচুর লতি ও শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকা। শুকনা মৌসুমে দেশি প্রজাতির মাছের সরবরাহ কম। অন্য মাছও রাজধানীর বাজারে কম আসছে। এতে প্রায় সব ধরনের মাছ কিনতে ১০ থেকে ২০ শতাংশ বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে।