বয়স মাত্র ছয়। এই বয়সেই সুবর্ণ আইজ্যাক বারীর বই বিক্রি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়েসি এ লেখকের 'দ্য লাভ' বইটিতে উচ্চারিত হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হবার উদাত্ত আহ্বান। সন্ত্রাসবাদবিরোধী কাজের জন্য এর আগে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ২০১৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে স্বীকৃতিও পেয়েছে সে। সুবর্ণ এগারোটি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে 'দ্য লাভ' বইটি লিখেছে। যার থেকে দুটি ঘটনা তাকে 'দ্য লাভ' আন্দোলন শুরু করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। প্রথমটি, ২০১৬ সালে ফোর্থ অব জুলাইয়ের প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রার্থনা করতে ইমামকে আহ্বান জানিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়। এ ঘটনার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে 'মুসলিম অ্যান্ড আই লাভ আমেরিকা' নামে একটি চলচ্চিত্রও তৈরি করা হয়েছে। দ্বিতীয়টি, একই বছর ক্রিসমাসের আগের দিন সে যখন একজন মানুষকে বড়দিনকে বিভিন্নভাবে অসম্মান করতে দেখে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে 'দ্য লাভ' বুক ট্যুরেও সুবর্ণ জানালো, 'আল্লাহু আকবর' শব্দটিকে সন্ত্রাসীরা হাইজ্যাক করেছে।

এ ধরনের বেশ কিছু পরিস্থিতির আলোকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করতে অনুপ্রাণিতবোধ করেছিল সুবর্ণ। তার এ আন্দোলনে এরমধ্যেই বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মানুষ যোগ দিয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তার সহযাত্রী হয়েছে। তার এ আন্দোলন বাংলাদেশে গতি অর্জন করে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়ান লিমা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারজানা মার্জিয়া ঢাকার রাস্তায় সুবর্ণের জন্য পোস্টার হাতে দাঁড়ান। পোস্টারে লেখা ছিল সুবর্ণের দর্শন, 'আল্লাহু আকবর শব্দটিকে সন্ত্রাসীরা হাইজ্যাক করেছে। একজন মুসলমান হিসেবে আমি ইসলামকে ভালোবাসি। আমি হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদি এবং খ্রিষ্টান ধর্মকেও ভালবাসি। আমি ঈদ উদযাপন করি। আমি দুর্গাপূজা, মধুপূর্ণিমা, রোশ হাসানা, ক্রিসমাস উদযাপন করতে ভালোবাসি। চলুন ভালোবাসা দিয়ে সন্ত্রাসবাদকে পরাস্ত করি।'

মন্তব্য করুন