জেলে-পুলিশ সংঘর্ষ সীতাকুণ্ডে ৬৫৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সীতাকুণ্ডের কুমিরা জেলেপাড়ায় জেলে ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সুনির্দিষ্ট ৫৯ জনসহ ৬০০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি বুধবার সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম জসিম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় আটক ১১ জেলেকে গতকাল আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

সোমবার রাতে সীতাকুণ্ডের বড় কুমিরা ঘাটঘর জেলেপাড়ায় রুবেল জলদাশকে আটকের ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিলাম্বু দাসীর আকস্মিক মৃত্যু হলে পুলিশের হামলায় ঐ বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে গুজব ছড়িয়ে পড়লে জেলেরা এসআই জসিম, আবদুল আলীমসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে পিটিয়ে জখম করে। কারা এ হামলা চালিয়েছে- তা জানতে জেলেদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আফজাল হোসেনসহ পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু আলোচনায় অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ শুরু হলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। জেলেরা বিভিন্ন রকম বোতল, ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকলে পুলিশও গুলি চালায়। এতে ওসি (তদন্ত) আফজাল হোসেন ও দুই পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধসহ আহত হন জেলে সম্প্রদায়ের পক্ষের অর্ধশত নারী-পুরুষ।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আফজাল হোসেন ইয়াবার একটি চালান সন্দ্বীপ যাচ্ছে- এমন খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালালে স্থানীয় জেলেসহ ইয়াবা পাচারকারীরা পুলিশের ওপর হামলা ও গুলি ছোড়ে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় জেলেপাড়া এলাকা থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।

কুমিরা জেলেপাড়ার সর্দার বাচা দাস বলেন, রুবেল ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে কখনও জড়িত ছিল না। তার বিরুদ্ধে থানায় জিডিও নেই। অথচ পুলিশ তাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী সাজানোর চেষ্টা করেছিল। আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। এতে গুলিবিদ্ধ একজনসহ অর্ধশত জেলে নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। রাতে পুলিশ ও বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী এ হামলা চালায় বলে দাবি করেন তিনি।