রাজবাড়ীতে গৃহবধূ শারমিনের মৃত্যু পিবিআইকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ আদালতের

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

রাজবাড়ীর গৃহবধূ শারমিন আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দিলেও আদালত তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটির পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজবাড়ী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক।

গত ১০ মার্চ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থানার উজানচর ইউনিয়নের চর করনেশন গ্রামে শ্বশুরবাড়ির উঠান থেকে শারমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার স্বামী ইব্রাহীম শেখ কাতারে থাকেন। এই দম্পতির দুটি শিশুসন্তান রয়েছে। শারমিনের পরিবার হত্যার অভিযোগ তুললেও পুলিশ আত্মহত্যার মামলা নেয়। এরপর তার মা আদালতে হত্যা মামলা করেন। সেই মামলাতেও গত ২২ এপ্রিল আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে গোয়ালন্দ থানা পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে। এতে বলা হয়, 'অতিরিক্ত ও অনিয়মিত ঋতুস্রাব এবং পেটের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে গলায় রশি দিয়ে শারমিন আত্মহত্যা করেছেন।' এর পক্ষে পুলিশ ফরিদপুরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের পুরনো চারটি ব্যবস্থাপত্রও জমা দিয়েছে। তবে শারমিনের পরিবার বলছে, শারমিন কখনও রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুরে গিয়ে চিকিৎসা নেননি। শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য তাকে হত্যা করেছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে পুলিশকে টাকা দিয়ে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। ওই ঘটনা নিয়ে ১৪ মে সমকালের প্রথম পাতায় 'রাজবাড়ীর গৃহবধূ শারমিনের মৃত্যু :একটি ফাইনাল রিপোর্ট অনেক প্রশ্ন' শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়।

মামলাটির বাদীপক্ষের আইনজীবী তসলিম আহমেদ সমকালকে বলেন, 'শারমিন হত্যাকে আত্মহত্যা উল্লেখ করে থানা পুলিশের জমা দেওয়া ফাইনাল রিপোর্টের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ নারাজি দিয়েছিলেন। তারা মামলাটি পিবিআই, ডিবি বা সিআইডিসহ পুলিশের যে কোনো বিশেষায়িত সংস্থা দিয়ে পুনঃতদন্তের আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন আমলে নিয়ে ২২ মে শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। সে অনুযায়ী গতকাল শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শারমিন নিগার থানা পুলিশের ফাইনাল রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে মামলাটি পিবিআইকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।'

মৃত শারমিনের বড় ভাই মিজানুর রহমান বলেন, তারা শুরু থেকেই থানা পুলিশের আচরণে সন্দেহ করে আসছিলেন। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও তারা আবেদন করেছিলেন। এর পরও গোয়ালন্দ থানা পুলিশ তার বোনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। ন্যায়বিচারের জন্য তারা আদালতে আবেদন করেন। এখন আদালতের নির্দেশে পিবিআই দিয়ে তদন্ত হলে তারা ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা করছেন।