গৃহকর নির্ধারণে অনিয়ম করেছেন সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯      

বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন, নগরীতে গৃহকর বাড়ানো হয়নি, সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময়ে গৃহকর নির্ধারণে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছিল। এমনও হয়েছে- যার গৃহকর এক লাখ টাকা, তার ধার্য করা হয়েছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। সেগুলো সংশোধন করে সঠিক কর ধার্য করার কার্যক্রম চলছে। ফলে অনেক গ্রাহকের গৃহকর বর্তমানের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নগরীতে গৃহকর বৃদ্ধি নিয়ে নানা গুজব সম্পর্কে নিজের অবস্থান জানাতে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বর্তমান মেয়র। গতকাল বুধবার নগর ভবনের সভাকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

তবে একসঙ্গে কয়েকগুণ কর বৃদ্ধিতে নগরজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে উপস্থিত সাংবাদিকরা এমন মত দিলে মেয়র বলেন, এটা একধরনের রাজনৈতিক চাল। এখন গৃহকরধারীদের জানানো হচ্ছে তার প্রকৃত কর কত টাকা। চূড়ান্ত ধার্য করার আগে মানবিক ও সামাজিক বিষয়সহ অনেক কিছুই বিবেচনায় আনা হবে।

রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিসিসির সচিব মো. ইসরাইল সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিসিসির সর্বশেষ গৃহকর নির্ধারিত হয় ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি। তৎকালীন মেয়র আহসান হাবিব কামালের পরিষদ নগরী তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে গৃহকর নির্ধারণ করেন। এতে কর নির্ধারিত হয় মূল শহরের আবাসিক ভবনের প্রতি এক হাজার স্কয়ার ফুট ৩৫০০ টাকা। বর্তমান মেয়র সেই হিসাবে কর ধার্য করছেন। বিসিসি সচিব জানান, নতুন গড়ে ওঠা এবং পরিবর্তিত চার হাজার ভবনের নতুন কর ধার্য করার প্রক্রিয়া চলছে। নতুন কর ধার্য করতে গিয়ে সাবেক মেয়রের পরিষদের অনিয়মের খেসারত বর্তমান পরিষদকে দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সাবেক মেয়র কোনো নিয়ম-নীতি না মেনে শুধু ফাইলের ওপর নোট লিখে কর ধার্য করে দিতেন। এর উদাহরণ হিসেবে সচিব জানান, নগরীর সদর রোডে বাণিজ্যিক ভবন সোবাহান কমপ্লেক্সের মালিক বার্ষিক গৃহকর দিতেন ২৭ হাজার টাকা। নতুনভাবে পরিমাপ করতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে প্রকৃত কর হয় এক লাখ ৮৭ হাজার টাকা। আবার শিল্পপ্রতিষ্ঠান খান সন্স গ্রুপ হোল্ডিং কর দিচ্ছে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। নতুনভাবে পরিমাপ করে দেখা যায়, সেখানে প্রকৃত কর হয় ২৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, প্রকৃত কর নির্ধারণ করায় আগের চেয়ে কয়েকগুণ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শতগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এটাকে পুঁজি করে কর বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে একটি স্বার্থান্বেষী মহল নগরীতে গুজব ছড়াচ্ছে। মেয়র বলেন, ২০১৮ সালে মন্ত্রণালয়ের একটি পরিপত্রে প্রতি এক হাজার স্কয়ার ফুটে ১৫ হাজার টাকা কর ধার্য করার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু নগরবাসীর স্বার্থ বিবেচনা করে তিনি ২০১৬ সালে সাবেক মেয়রের ধার্য হারেই গৃহকর আরোপ করছেন।