চট্টগ্রাম দুদকে আসা ৭০ ভাগ অভিযোগই ভিত্তিহীন

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯      

রুবেল খান, চট্টগ্রাম

দুর্নীতির অপরাধ সম্পর্কে চট্টগ্রামের অধিকাংশ মানুষ সচেতন নন এখনও! তাদের অনেকেই জানেন না কোনটি দুর্নীতির অপরাধ এবং কোনটি দুর্নীতির অপরাধ নয়। তার প্রমাণ পাওয়া যায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়ে আসা দুর্নীতির নানা অভিযোগের মধ্যে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে দুদকের যে কার্যালয় রয়েছে, সেখানে গড়ে ১শ'টি অভিযোগ আসে প্রতিদিন। এসব অভিযোগের মধ্যে ৭০ ভাগই ভিত্তিহীন ও দুর্নীতির অপরাধসংশ্নিষ্ট নয়! বেশিরভাগ অভিযোগই জায়গা-জমি সংক্রান্ত ও প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা। অথচ দুদকের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে দুর্নীতির অপরাধগুলো কী কী, তা উল্লেখ করে লিফলেট লাগানো হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দুদকের পক্ষ থেকে জনগণকে অবহিতও করা হয়েছে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে।

দুদকের ওই বিজ্ঞাপন ও লিফলেটে দুর্নীতির অপরাধ হিসেবে ঘুষ, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি সম্পদ ও অর্থ আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দুদককে দুর্নীতির অভিযোগ জানাতে যে কোনো মোবাইল নম্বর থেকে যে কোনো সময় ১০৬ নম্বরে ফ্রি কল করার কথাও বলা হয়েছে। তারপরও অনেকে ১০৬ নম্বরে কল করে কিংবা দুদক কার্যালয়ে লিখিতভাবে যেসব অভিযোগ করে থাকেন, তার অধিকাংশই দুর্নীতির অপরাধসংশ্নিষ্ট নয়। এ কারণে চট্টগ্রাম দুদকে আসা ৭০ ভাগ অভিযোগই আমলে নেওয়া হয় না। দুদকের প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়েই যেসব অভিযোগ দুর্নীতির অপরাধ সংক্রান্ত নয়, সেসব অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে দুদক চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মো. আব্দুল করিম বলেন, 'কিছুদিন আগে আমাদের এই কার্যালয়ে একটি অভিযোগ পাঠিয়েছেন এক মসজিদের ইমাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, মসজিদ পরিচালনা কমিটি তাকে আর ইমামতিতে রাখতে চাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে দুদকের কাছে প্রতিকার চান ওই ইমাম। এ ধরনের অভিযোগ দুদক চট্টগ্রাম বিভাগের কার্যালয়ে অনেক আসে প্রতিদিন। ওই অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে ৭০ ভাগ অভিযোগই ভিত্তিহীন ও দুর্নীতির অপরাধসংশ্নিষ্ট নয়। বেশিরভাগ অভিযোগই জায়গা-জমি সংক্রান্ত ও প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা। তাই সেগুলো প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়েই বাদ পড়ে যায়। দুর্নীতির অপরাধসংশ্নিষ্ট যেসব অভিযোগের সত্যতা রয়েছে বলে প্রতীয়মান, সেগুলোর একটি তালিকা পাঠানো হয় দুদক হেড কোয়ার্টারে। ওই তালিকা থেকে যেসব অভিযোগের ব্যাপারে অনুসন্ধানের

অনুমতি দেয় দুদক হেড কোয়ার্টার, অনুসন্ধান করা হয় সেই অভিযোগগুলো। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির নিকট সম্পদের হিসাব চাওয়া হয় তার। অনুসন্ধানে যাদের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্য অনুমোদন চাওয়া হয় দুদক হেড কোয়ার্টারের। এ ছাড়াও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের মধ্যে যারা যথাসময়ে দুদকে তার সম্পদের হিসাব জমা না দেন, মামলা দায়ের করার জন্য দুদক হেড কোয়ার্টারের অনুমোদন চাওয়া হয় তাদের বিরুদ্ধেও। দুদক হেড কোয়ার্টারের অনুমোদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।'

তিনি বলেন, 'অভিযুক্ত ব্যক্তি যে-ই হোক না কেন, তারও সমাজে মান-মর্যাদা রয়েছে। তাই নানা ধাপে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তার দুর্নীতি যাচাই-বাছাই করে এর পর দুদক হেড কোয়ার্টারের অনুমোদন সাপেক্ষে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর তদন্ত করা হয় আবারও। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়া হয় চার্জশিট। সেই চার্জশিটও দুদক হেড কোয়ার্টারের অনুমোদন সাপেক্ষে জমা দেওয়া হয় আদালতে। এর পর আদালত যে রায় দেন, সেই রায়ের মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি হয় মামলা।'