পাকুন্দিয়ায় একমণ ধানের দরে এক শ্রমিকের মজুরি

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯      

কিশোরগঞ্জ অফিস

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণ জমিতে এ বছর বোরো আবাদ করেছেন এখানকার কৃষকরা। তবে বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষক। শ্রমিক সংকট, বেশি পারিশ্রমিকে কৃষি শ্রমিক দিয়ে ধান কেটে ও সব খরচ শেষে যে বাজারদর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ আদ্রর্তার ধান ৫৫০-৬০০ টাকা দরে। আর দৈনিক ভিত্তিতে একজন শ্রমিকও নিয়োগ দিতে হচ্ছে একই দরে। এ অর্থে কৃষকরা যে ধান ফলিয়েছেন, তার নিট খরচ হিসাব করলে তাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৯ হাজার ৫১ হেক্টর থাকলেও আবাদ হয়েছে হয়েছে ৯ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে। তবে চলতি বছর ব্রি-২৮ ধান আবাদ করে কৃষকরা পুরোদমে

হতাশ। এ জাতের ধানে চিটা ধরে ফলন বিপর্যয় হয়েছে। যেখানে কানি (৩৫ শতাংশ) প্রতি ১৫-১৬ মণ ধান পাওয়ার কথা, সেখানে ধান হয়েছে ৫-৬ মণ।

সরেজমিন উপজেলার পূর্ব কুমারপুর গ্রামের আল আমিনের জমিতে গিয়ে তিন শ্রমিকসহ তাকে ধান কাটায় ব্যস্ত দেখা যায়। তিনি জানান, ৫৫০ টাকা রোজে তিনজন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটছেন। ৫ কাঠা (পৌনে ৯ শতাংশে এক কাঠা) জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান আবাদ করেছেন হোসেন্দী পূর্ব কুমারপুর গ্রামের মো. আল আমিন। ৫ কাঠা থেকে ধান পেয়েছেন ৫ মণ। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ৫ মণ ধান বিক্রি করে শ্রমিক খরচসহ যাবতীয় খরচের হিসাবে শেষে পুরোটাই লোকসান তার।

তবে ৩২ শতক জমিতে তিনি হাইব্রিড-১২০৩ জাতের ধান করেছিলেন। ব্রি-২৮ জাতের ধানের ফলন বিপর্যয় হলেও হাইব্রিড ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে বাজারদর অনুযায়ী এ ধান বিক্রি করেও লাভের মুখ দেখা দুস্কর বলে জানান এ কৃষক। ধানের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করে কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের কাছে আকুতি জানান তিনি।

হোসেন্দী উত্তরপাড়া গ্রামের কৃষক মো. রোকন উদ্দিন জানান, দেড় কানি জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ করেছেন। এতে ফলন বিপর্যয় হয়েছে। সব ধান চোচা (চিটা) হয়ে গেছে। এত দামে শ্রমিক নিয়ে ধান কেটে মাত্র ৬-৭ মণ ধান পেয়েছেন। এতে বর্তমান বাজারদরে তিনি লোকসান গুনছেন।

মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আবদুল মতিন জানান, ৬৮ শতক জমিতে হাইব্রিড-১২০৩ জাতের ধান চাষ করেছেন। এতে তার ভালো ফলন হয়েছে। তবে চড়া দামে শ্রমিক নিয়ে ধান কেটে ও সব খরচ বাদ দিয়ে বাম্পার ফলন সত্ত্বেও ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি।

এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল হাসান আলামিন বলেন, এ উপজেলায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সেজন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে খাদ্য বিভাগে তালিকা দেওয়া হচ্ছে। খাদ্য বিভাগ ধান ক্রয় করলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।