বন বিভাগের জরিপ সুন্দরবনে ৩ বছরে বাঘ বেড়েছে ৮টি

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

তিন বছর আগের তুলনায় বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনে বাঘের (রয়েল বেঙ্গল টাইগার) সংখ্যা বেড়েছে আটটি। বর্তমানে বাঘের সংখ্যা ১১৪টি। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ১০৬।

গতকাল বুধবার 'সুন্দরবনের বাঘ জরিপের ফলাফল ঘোষণা ও সেকেন্ড ফেইজ :স্ট্যাটাস অব টাইগারস ইন বাংলাদেশ সুন্দরবন-২০১৮' প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। বন বিভাগের জরিপভিত্তিক এ প্রতিবেদনে ওপরের তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বন বিভাগ ২০১৫ সালে সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাঘ গণনা করে। তাদের জরিপে সুন্দরবনে বাঘের ঘনত্ব ছিল প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে দুই দশমিক ১৭টি, আর মোট বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ২০১৮ সালে প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে বাঘের ঘনত্ব বেড়ে হয়েছে দুই দশমিক ৫৫টি। বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৪।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বন ভবনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব ড. মো. বিল্লাল হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জরিপের ফল উপস্থাপন করেন বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক জাহিদুল কবির এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ।

ইউএসএইডের অর্থায়নে বেঙ্গল টাইগার

কনজারভেশন অ্যাক্টিভিটি (বাঘ) প্রকল্পের আওতায় এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে বন বিভাগকে সহযোগিতা করেছে ওয়াইল্ড টিম, যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথ সোনিয়ান কনজারভেশন বায়োলজি ইনস্টিটিউট ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, সুন্দরবনের খুলনা, সাতক্ষীরা ও শরণখোলা রেঞ্জে ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ২৪৯ দিনের জরিপ চালিয়ে বন বিভাগ নিশ্চিত হয়েছে এখানে বাঘের সংখ্যা আটটি বেড়েছে। অর্থাৎ মানুষ সচেতন হচ্ছে, আগের মতো বাঘ হত্যা হচ্ছে না।

যথোপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাঘের সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপ-মন্ত্রী হাবিবুন নাহার।

সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী বলেন, বাঘশুমারির প্রয়োজনে ওই এলাকাগুলোর খাল আর নদীগুলোকেও জরিপের আওতায় রাখা হয়েছিল। সুন্দরবনে কতটি বাঘ থাকতে পারে এ ব্যাপারে একটি গবেষণা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

সুন্দরবনের যে অঞ্চলগুলোতে বাঘের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি, এমন এক হাজার ৬৫৯ বর্গকিলোমিটার এলাকায় 'ক্যামেরা ফাঁদ' পদ্ধতিতে এ জরিপ চালানো হয়। সর্বশেষ এই জরিপে সুন্দরবনের ২৩৯টি জায়গায় গাছের সঙ্গে ৪৯১টি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল।

জরিপ অনুযায়ী, বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জে বাঘের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি- প্রতি বর্গকিলোমিটারে তিন দশমিক ৩৩টি। সবচেয়ে কম খুলনা রেঞ্জে- প্রতি বর্গকিলোমিটারে এক দশমিক ২১টি।