পঞ্চগড়ে পর্নোগ্রাফি আইনে দুই যুবক গ্রেফতার ভয়ে আত্মগোপনে ভুক্তভোগী পরিবার

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯      

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্কুলছাত্রীর ধর্ষণচেষ্টার ভিডিও প্রকাশ করে ফজলুল হক সাগর নামে চতুর্থ শ্রেণির এক সরকারি কর্মচারী। এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ছাত্রীর মায়ের করা মামলায় সাগরসহ দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে আসামি প্রভাবশালী হওয়ার তাদের পরিবারের লোকজন ও দালালদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ছাত্রী, তার মা ও পরিবারের লোকজন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সাগর পঞ্চগড় গণপূর্ত বিভাগের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (প্রহরী)। জেলা শহরের ডোকরোপাড়া মহল্লার বাসিন্দা সাগরের বাবাও সরকারি অফিসের গাড়িচালক। সাগরের নিজের সাউন্ড সার্ভিসের ব্যবসাও রয়েছে। সে জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যকরী কমিটির সদস্য। সে জাফরুল ইসলাম অন্তর নামে আরেক শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। অন্তর মেয়েটির বন্ধু। ধর্ষণচেষ্টার ভিডিও ধারণ করে প্রচারের হুমকি দিয়ে ৬ মাস ধরে তাকে নির্যাতন করছিল সাগর। এরই মধ্যে সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পঞ্চগড় থানায় ১৭ মে মামলা করেন মেয়েটির মা। মামলার পরপরই সাগর ও অন্তরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার পর থেকেই সাগরের পরিবারের লোকজন ও একশ্রেণির দালাল মামলাটি তুলে নিতে মেয়ের মাকে চাপ দিতে থাকে। ভয়ে মেয়েসহ তার মা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে নির্যাতিত মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে হুমকির কোনো অভিযোগ আসেনি বলে জানায় পুলিশ। সাগরের নামে পর্নোগ্রাফির মামলা হওয়ায় মঙ্গলবার জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় তাকে সদস্য পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত

করা হয়েছে।

স্থানীয় নারীনেত্রী ও জেলা পরিষদের সদস্য আকতারুন নাহার সাকী বলেন, এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ দিতে না পারে এটা ভাবাই যায় না। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে ওই ভিডিও যার কাছে পাওয়া যাবে, তাকেও এই মামলার আসামি করা দরকার। তিনি ভিডিওটি মুছে ফেলতে স্থানীয়দের প্রতি অনুরোধ করেন।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিবুল ইসলাম বলেন, সাগরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

ছাত্রীর বড় ভাই বলেন, আমরা মামলা করেছি সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার আশায়। মামলা করার পর অনেকেই মাধ্যম হয়ে আসছেন বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য। তাদের চিনি না। তাদের জন্য হয়তো মা বাড়িতে থাকছেন না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আসামিরা হুমকি দিচ্ছে- বাদীপক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।