দুদকের মামলা সাংবাদিক নদী হত্যা মামলার আসামি সস্ত্রীক কারাগারে

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯      

পাবনা অফিস

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় পাবনার ওষুধ কোম্পানি ইড্রাল ও শিমলা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন ও তার স্ত্রী তাসলিমা হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার তারা পাবনার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারক কামাল হোসেন তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আবুল হোসেন, তার স্ত্রী তাসলিমা ও ছেলে রাজীবুল ইসলাম রাজীব জেলার নারী সাংবাদিক সুবর্ণা আক্তার নদী হত্যা মামলার এজারহারভুক্ত আসামি। রাজীব নদীর সাবেক স্বামী।

দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট খোন্দকার

জাহিদ রানা জানান, গত বছরের ৩০ আগস্ট আবুল হোসেন ও তার স্ত্রীর সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য দুদকের পক্ষ থেকে নোটিশ পাঠানো হয়। সেই নোটিশের জবাব পাওয়া যায়নি। দুদক তদন্ত করে প্রায় ১২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পায়। পরে দুদকের পক্ষ থেকে সে সময়ে দুটি মামলা করা হয়। মামলার পর আবুল হোসেন ও তার স্ত্রী চার্জশিট হওয়ার আগ পর্যন্ত হাইকোর্ট থেকে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। পিপি আরও জানান, গতকাল ছিল ওই মামলা দুটির চার্জশিট দাখিলের নির্ধারিত দিন। আদালতে তারা উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী আহসান হাবিব হাসান বলেন, দুদকের নোটিশ পাওয়ার পর ১০ দিনের সময় নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী আবুল হোসেন। তবে চারদিন পেরোতেই পাবনার এক নারী সাংবাদিক হত্যা মামলায় পুলিশ তাকে তার প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের কারণে যথাসময়ে তিনি সম্পদের বিবরণী দাখিল করতে পারেননি।

তিনি অভিযোগ করেন, দুদকের সে সময়ের উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক ঈর্ষান্বিত হয়েই আবুল হোসেন ও তার স্ত্রীর নামে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে গেছেন। তিনি ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদোত্তীর্ণ হলে তিনি নতুন করে জামিন চাইলে আদালত নামঞ্জুর করেন।

সাংবাদিক নদীর মা মর্জিনা খাতুন সমকালকে বলেন, গত বছরের ২৮ আগস্ট সাবেক স্বামী রাজীবুল ইসলাম রাজীব, তার সহকারী মিলনসহ চার-পাঁচজন নদীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। মৃত্যুর আগে নদী হত্যাকারীদের নাম বলে গেছে। পুলিশ এ মামলায় এখনও চার্জশিট দেয়নি।