যশোরে মিঠু হত্যা কারামুক্ত নিরপরাধ সবুজ

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯

যশোর অফিস

অবশেষে যশোরের আলোচিত মিঠু শেখ হত্যা মামলা থেকে রেহাই পেলেন নির্দোষ সবুজ বিশ্বাস। আদালতের নির্দেশে গতকাল বুধবার বিকেলে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়া পান তিনি। এর আগে দুপুরে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আয়শা নাসরিন তাকে কারামুক্তিসহ প্রকৃত আসামি জনিকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর এবং সম্পূরক চার্জশিট দেওয়ার আদেশ দেন।

সবুজের আইনজীবী ব্লাস্ট সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোস্তফা হুমায়ুন কবির জানান, মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতকে জানান, আটক সবুজ চার্জশিটভুক্ত আসামি নয়। তাকে ধরা পুলিশের ভুল হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত সবুজের কারামুক্তির নির্দেশ

দেন।

সরকার পক্ষের আইনজীবী এপিপি অ্যাডভোকেট বিমল কুমার রায়

জানান, বিনাদোষে আটক সবুজ ও প্রকৃত আসামি জনি ছাড়াও মামলার বাদী ইস্রাফিল শেখ ও সবুজকে আটককারী কোতোয়ালি থানার এএসআই সোহেল রানা আদালতে হাজির ছিলেন।

এদিকে, সবুজের মুক্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করে তার বাবা খাইরুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, তিনি আদালতে সুবিচার পেয়েছেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি অপূর্ব হাসান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুততার সঙ্গেই এ মামলার সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে।

অন্যের অপরাধে তিন মাস ধরে বিনা দোষে জেলের ঘানি টানছিল যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা গ্রামের খাইরুল বিশ্বাসের ছেলে সবুজ বিশ্বাস। এ ঘটনাটি নিয়ে দৈনিক সমকালে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর আগে যশোরে শিরিন বেগম নামে এক নারীকে মাদক মামলায় আদালত সাজা দেওয়ার পর তার পরিবর্তে রেখা খাতুন নামে অপর এক নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ কারাগারে পাঠিয়েছিল। ওই ঘটনাটি নিয়েও সমকাল সংবাদ প্রকাশ করে। পরে গত ৪ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে মুক্তি পান রেখা।

আদালত সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর খুন হয় যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নের বেড়বাড়ি গ্রামের মিঠু শেখ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ইসরাইল বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলার চার্জশিটভুক্ত পাঁচ নম্বর আসামি পার্শ্ববর্তী আরবপুর ইউনিয়নের খোলাডাঙ্গা গ্রামের খায়রুল ইসলামের ছেলে জনি। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন; কিন্তু গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ জনিকে না ধরে প্রতিবেশী ট্রাক-ড্রাইভার সবুজ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে মিঠু শেখ হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি জনি হিসেবে আদালতে পাঠায়। গত ১৯ মে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রকৃত আসামি জনি ওরফে কালো জনি।