ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সেই নেত্রী 'স্ট্রোক' করে হাসপাতালে

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯      

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

সংগঠন থেকে বহিস্কৃত হওয়ার পর ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য জেরিন দিয়া। সোমবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর মঙ্গলবার তাকে রিলিজ দেওয়া হয়। কিন্তু একদিন বাদেই ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাকে। গতকাল বুধবার দুপুরে 'স্ট্রোক' করার পর দিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীর প্যারালাইজড হয়ে মুখ বেঁকে গেছে বলে দাবি করেছেন তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা।

এদিকে, গতকাল রাতে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী চিকিৎসাধীন জারিনকে দেখতে হাসপাতালে যান। এ সময় তারা জানান, জারিনের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার

হতে পারে। সাইফুর রহমান সোহাগ ও এসএম জাকির হোসাইনের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের বিগত কমিটির সমাজসেবা সম্পাদক রানা হামিদ এসব তথ্য নিশ্চিত করে সমকালকে জানান, জারিন দিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল দুপুর ২টার দিকে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রানা হামিদ আরও জানান, মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল থেকে রিলিজ পাওয়ার পর ওইদিনই দিয়া ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, ওয়াশ করে ঘুমের ওষুধ বের করার পরও একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়ে যায়। ল্যাবএইডে প্রাথমিক চিকিৎসার পর একটু সুস্থ হলে দিয়াকে বাসায় নেওয়া হয়। কিন্তু গতকাল তিনি ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, দিয়ার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। দু-একদিন তাকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এর আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

রানা হামিদ জানান, রাত ১০টার দিকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হাসপাতালে এসেছিলেন। তখন তারা জারিনের বাবা-মায়ের সঙ্গে আলাপের একপর্যায়ে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে গোলাম রাব্বানী বলেন, দিয়া তার ভুল বুঝতে পেরেছে। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর গত ১৩ মে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে জারিন দিয়াও ছিলেন। হামলায় তিনি আহতও হয়েছেন। অথচ এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে গত ২০ মে তাকেই সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়। এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন দিয়া। এর আগে ফেসবুকে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, 'আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। জানি না কী করব। আমি যদি মারা যাই শোভন-রাব্বানী ভাইদের কাছ থেকে প্রশ্নগুলোর উত্তর নিয়ে আমাকে কলঙ্কমুক্ত করবেন পারলে।'