কারাগারে মাদকের আসামি পৃথক সেলে রাখতে হবে

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত বন্দিদের জন্য কারাগারের ভেতরে পৃথক সেল তৈরি করে সেখানে তাদের রাখার প্রস্তাব করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে তাদের বন্দি অবস্থাতেই কাউন্সেলিং করানোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। জেলা পর্যায়ের সরকারি চিকিৎসকদের এ বিষয়ে সম্পৃক্ত করার কথাও বলা হয়।

গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান। এ সময় তার সঙ্গে কমিটির আরেক সদস্য জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বলা হয়, সারাদেশের আদালতে ২৪ হাজার মাদক মামলায় অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছে।

শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, হাবিবর রহমান, ফরিদুল হক খান, পীর ফজলুর রহমান এবং নূর মোহাম্মদ।

কমিটির সভাপতি জানান, কমিটির পক্ষ থেকে মাদক মামলার আসামি ও সাজাপ্রাপ্তদের জন্য কারাগারে পৃথক ওয়ার্ড তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। তাদের কাউন্সেলিং করানোর জন্যও বলা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে সরকারি চিকিৎসকদের এ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে কাউন্সেলিংয়ের কাজে লাগানোর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। বৈঠকে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং চাকরিতে নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাদকসেবীদের চিহ্নিত করতে ডোপ টেস্ট ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ ঠেকানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। পরে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কমিটিকে আশ্বস্ত করা হলেও সুনির্দিষ্ট কারণ বা প্রতিকারের উপায় জানাতে পারেনি। তবে বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নেওয়া রেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে পাথর ছোড়ার ঘটনা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এ বিষয়ে শামসুল হক টুকু বলেন, তারা একাধিক কারণ বলেছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন। মূলত মাদকসেবী, পথশিশু এবং চোরাকারবারিরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। অনেক সময় ট্রেন কেন থামে না সেই ক্ষোভ থেকে পাথর ছোড়া হয়।বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী যে কোনো সম্ভাব্য

অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যথাযথভাবে তদারকি এবং আসন্ন ঈদ সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে ঈদ সামনে রেখে যাতে চাঁদাবাজি না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে বলা হয়।

বৈঠকে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং পর্নোগ্রাফি বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়।