সোনামণির বায়না মেটাতে ভিড়

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯      

সাজিদা ইসলাম পারুল

'কিছু পাই আর না পাই, ঈদে নতুন পোশাক চাই-ই চাই।' ছোট্ট সোনামণি তুলতুলির এমন আবদার মেটাতেই প্রখর রোদ উপেক্ষা করে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছিলেন রামপুরার অপ্সিতা রহমান। একমাত্র মেয়ের পছন্দ অনুযায়ী পোশাকও কিনে দিয়েছেন। তিনি বলেন, বায়নাও ঈদ আনন্দের একটা অংশ। আর বড়দের চেয়ে ছোটদের ঈদ আনন্দ বেশি। তাই মেয়ের বায়না মেটাতে বিপণিবিতান ঘুরে কেনাকাটা করলাম।'

শুধু তুলতুলি নয়, প্রত্যেক পরিবারেই ঈদের কেনাকাটা আগে হয় ছোটদের জন্য। কারণ ছোটদের আনন্দের মধ্য দিয়েই বড়রা শিহরিত হয়। তাই প্রতিবছর দুই ঈদেই শিশুদের জন্য বিশাল আয়োজন থাকে শপিংমলগুলোতে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর সোনামণিদের জন্য শপিংমল ও ফ্যাশন হাউসগুলো এনেছে বিভিন্ন ডিজাইন ও বৈচিত্র্যময় পোশাক।

রাজধানীর কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি ঘুরে দেখা যায়, জরি, পুতিতে জড়ানো পাতলা চিকচিকে জমকালো টিস্যু কাপড়ের ওপর দু'পাশে ঝোলানো গোল ফোলানো জামাটিতে রয়েছে একটি বাড়তি কোটি। ওড়নার সঙ্গে মিল করে জরির কাজ করা সালোয়ার। এ পোশাকের নাম 'টিস্যু গ্রাউন'। দোকানিরা জানালেন, এবারের ঈদে সোনামণিদের পছন্দের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে 'টিস্যু গ্রাউন'। দাম ১ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। টিস্যু গ্রাউন ছাড়াও 'গারারা' নামের ইন্ডিয়া ঢংয়ের ড্রেসও উঠেছে বাজারে। কাতান কাপড়ের তৈরি জামার ওপরে পার্ট কামিজ যা ঝুলে ছোট। সালোয়ার ঢোলা যার হাঁটুর দিকে ঘোরানো জরি চুমকির কাজ করা।

ওড়নায়ও ভারী কাজ। আট মাস থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুর এ পোশাকটি পাওয়া যাচ্ছে ৮শ' থেকে ৭ হাজার টাকায়। এবার ছেলে শিশুদের জন্য মার্কেটে এসেছে 'ডিজে সেট'। পোশাকটির প্যান্টের পকেট ও শার্টের পকেটে লাইট ও মিউজিক বসানো। সাইজের ওপর নির্ভর করে এর দাম ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়াও এসেছে মোদি সেট, বাবাসেট পাঞ্জাবি-পায়জামা-কটি, শার্ট-প্যান্ট, বাবা সেট, মোদি সেট, কুর্তা, ফতুয়া ও গেঞ্জি সেট। এসব পোশাকে ডিজাইন ও কাটছাঁটের পাশাপাশি নামেও রয়েছে ভিন্নতা।

নিউমার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিংমল, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন বিপণিবিতান ঘুরে দেখা গেছে, মেয়ে শিশুদের জন্য গ্রাউন, সারারা, রাজ-থী, বাহুবলী-২ বেবি স্টাইল টপস, পার্টি ফ্রক, গ্রাউন থ্রি পিস, লং-ফ্রক, লং-কামিজ, ঘাগড়াচোলি, টিউনিক ক্যাপি, ডিভাইডার, লেগিংসের পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন পোশাকও কিনছেন অভিভাবকরা। দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে বসুন্ধরা সিটিতে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন আফরোজা বেগম। তিনি জানালেন, তার ছয় বছরের মেয়ে অধরা বড়দের মতন করে সাজতেই বেশি ভালোবাসে। তাই তার আবদার খালামণির মতো সালোয়ার-কামিজ কিনে দিতে হবে। অনেক ঘোরাঘুরির পরও পছন্দের কামিজ না পাওয়ায় মেয়েকে তিনি কিনে দিয়েছেন শাড়ি, ফ্লোর টাচ আর গ্রাউন। অন্যদিকে ছেলের জন্য কিনেছেন পাঞ্জাবি আর প্যান্ট-শার্ট। অন্যবারের তুলনায় এবার পোশাকের দাম একটু বেশি বলেও জানান তিনি।

ফরচুন মার্কেটের চৈতী স্টাইলের কর্ণধার পরিমল দেবনাথ বলেন, এবারের ঈদে মেয়ে বাচ্চাদের জন্য এসেছে টিস্যু কাপড়ের ওপরে বিভিন্ন ডিজাইনের সব পোশাক। এ ছাড়াও আছে বাজিরাও মাস্তানি, দোপাট, শাড়ি ফ্রক, ওয়েস্টার্ন ডিভাইডার, শাড়ি ফ্লোর টাচ, লং-ফ্রক, লেহেঙ্গাসহ ভিন্ন নামের পোশাক। এসব পোশাকের দাম পড়বে ২৫০০ টাকা থেকে ৭০০০ টাকার মধ্যে। মাহিয়া ফ্যাশন ওয়ারের আবদুল্লাহ আল-মুবিন বলেন, গত বছরের তুলনায় এবারের ঈদ কালেকশন ভালো বলে ক্রেতারা বেশি আসছেন। বেচাকেনাও ভালো।

আজিজ সুপার মার্কেটের বাঙ্গালে পাওয়া যাচ্ছে শিশুদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী পোশাক। এখানে এক মাসের বাচ্চার পোশাকও পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন ডিজাইনের এসব পোশাকের জৌলুস বাড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে লেইস, চুমকি, পুঁতি, ব্লক, পট্টি, এমব্রয়ডারি, কারচুপি, অ্যাপলিক, কুচি এবং হরেক রকমের সুতার বুনন। এ ছাড়া আরামদায়ক পোশাকের জন্য অ্যান্ডি কটন, তাঁতের কাপড় এবং বৈচিত্র্য আনার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে লাল, নীল, মেরুন, সবুজ, ফিরোজা, ম্যাজেন্টা, কমলা, গোলাপিসহ নানা উজ্জ্বল রঙের কাপড়।

এদিকে, গরমের কারণে মেয়ে শিশুদের পোশাকে এবার হাল্ক্কা ও সুতি কাপড়ের প্রাধান্য থাকলেও জমকালো পোশাকগুলোতে ঠিকই ব্যবহূত হয়েছে কাতান, টিস্যু, মসলিন ও সার্টিন কাপড়। ডিজাইনেও রয়েছে ভিন্নতা। আর বাচ্চাদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে বরাবরের মতো এবারও প্রাধান্য পেয়েছে গাঢ় উজ্জ্বল রঙ। সাইজ আর রঙের ভিন্নতা অনুসারে এসব পোশাকের দামেও রয়েছে বেশ হেরফের।

সোনামণিদের চাহিদার পূর্ণতা দিতে উচ্চবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত সব শ্রেণির মানুষের এখন ঢল নেমেছে কেনাকাটায়। সামর্থ্য অনুযায়ী তারা কেউ যাচ্ছেন অভিজাত শপিংমলে। কেউ যাচ্ছেন সাধারণ বিপণিবিতানে। কেউ কেনাকাটা সারছেন ফুটপাতেই।