চলন্ত বাসে গণধর্ষণ

টাঙ্গাইলে চালকসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে চলন্ত বাসে পোশাককর্মীকে গণধর্ষণ মামলায় চালকসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বিনিময় পরিবহন বাসের চালক জেলার ধনবাড়ী উপজেলার ফকিরবাড়ী গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে হাবিবুর রহমান নয়ন (২৮), হেলপার একই উপজেলার দয়ারামবাড়ী গ্রামের আরশেদ আলীর ছেলে আবদুল খালেক ভুট্ট (২৩), চতুটিয়া গ্রামের কছিম উদ্দিনের ছেলে মো. আশরাফুল (২৬) এবং সুপারভাইজার নিজবর্ণি গ্রামের আবদুল মোতালেবের ছেলে রেজাউল করিম জুয়েল (৩৮)। রায় দেওয়ার সময় রেজাউল করিম জুয়েল ছাড়া আদালতে তিন আসামি উপস্থিত ছিলেন। জুয়েল জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক রয়েছেন।



মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল ওই পোশাককর্মী টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে ভোর ৫টার দিকে বিনিময় পরিবহনের একটি বাসে কালিয়াকৈরে তার কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন। এ সময় বাসে যাত্রী না থাকার সুযোগে কিছুদূর যাওয়ার পর সুপারভাইজার বাসের জানালা-দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে গাড়ির চালক হাবিবুর রহমান নয়ন তাকে ভয় দেখিয়ে পেছনের সিটে নিয়ে ধর্ষণ করে। পর্যায়ক্রমে বাসের সুপারভাইজার রেজাউল করিম ও হেলপার ভুট্ট ধর্ষণ করে। পরে বাসটি ঢাকা না গিয়ে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রোডের মধুপুরের একটি ফাঁকা জায়গায় নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তিনি কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড গিয়ে স্বামীকে বিস্তারিত জানালে তার স্বামী তাকে টাঙ্গাইল এনে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং টাঙ্গাইল মডেল থানায় নয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে ওই দিনই গ্রেফতার করে। পুলিশ তদন্ত শেষে চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নাসিমুল আক্তার। তিনি বলেন, সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত এ রায় দিয়েছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী শামীম চৌধুরী দয়াল বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট নই। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।