বিশ্বকাপের জার্সি বিক্রির স্বত্ব নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

নিয়ম মেনেই স্বত্ব :বিসিবি

প্রকাশ: ২৩ মে ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

জাতীয় ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ জার্সি বিক্রির স্বত্ব নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতারা জানান, কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই একটি সিন্ডিকেটের চার প্রতিষ্ঠানকে জার্সি তৈরি ও বিক্রির স্বত্ব দিয়েছে বিসিবি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি বিক্রির স্বত্ব কিনেছে খেলার পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্পোর্টস অ্যান্ড স্পোর্টস। এ জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) এক বছরে ৫০ লাখ টাকা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বিসিবি ও জাতীয় দলের 'ক্লথিং ম্যানুফেকচার পার্টনার'ও তারা। বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ জার্সি তারাই তৈরি করেছে। এ ব্যাপারে বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেন, জার্সি তৈরি ও বিক্রির স্বত্ব জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিতে পারে বিসিবি। সে অনুযায়ী বিসিবি তার নিবন্ধিত 'ম্যানুফেকচার' প্রতিষ্ঠানকেই পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য জাতীয় দলের জার্সি তৈরি ও বিক্রির স্বত্ব দিয়েছে।

বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের দাবি, কোনো প্রকার টেন্ডার আহ্বান ছাড়াই অঞ্জনস, জেন্টল পার্ক, স্পোর্টস অ্যান্ড স্পোর্টস ও রবিন স্পোর্টসকে জার্সি তৈরি ও বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সিন্ডিকেট ছাড়া অন্য কোনো ক্রীড়া পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জার্সি তৈরি বা বিক্রি করতে পারবে না বলে সব ক্রীড়া সামগ্রী ব্যবসায়ীকে সতর্ক করেছে তারা। এতে ৩০০-৪০০ টাকার জার্সি দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ জার্সি তৈরি ও বিক্রির স্বত্ব কেবল স্পোর্টস অ্যান্ড স্পোর্টসের। এই প্রতিষ্ঠানটি জার্সি তৈরি করে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে বাজারে বিক্রির দায়িত্ব দিয়েছে।

স্পোর্টস অ্যান্ড স্পোর্টসের ম্যানেজিং পার্টনার এমএ আহমেদ বলেন, বিশ্বকাপ বা জাতীয় দলের জার্সি আগামী এক বছরের জন্য আমরা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারবে না। যে কয়টি প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট আউটলেটে জার্সি বিক্রি করতে পারবে তারা আমাদের কাছ থেকেই নিয়েছে। যারা এখন সিন্ডিকেটের কথা বলছে, তারা আসলে বিষয়টি ভালোভাবে জানে না। এ ছাড়া তারা জার্সি বিক্রি করতে চাইলে আমাদের সঙ্গে আগে যোগাযোগ করতে পারত। এখন জার্সি নকল করতে না পেরে ভিত্তিহীন অভিযোগ নিয়ে এসেছে।

জার্সির উচ্চমূল্য নির্ধারণের কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, প্রথমত স্বত্ব কেনার জন্য টাকা দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি জার্সি বিক্রি থেকে সরকারকে ভ্যাট ও ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া যে কাপড় দেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকার জার্সি একই কাপড়ে হবে না। যারা বেশি দামের অভিযোগ করছে তারা বিসিবি ও আইসিসির লোগো অবৈধভাবে ব্যবহার করত।