কুমিল্লায় দু'পক্ষে সংঘর্ষ ভাংচুর, আহত ১৩

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামে দু'পক্ষের সংঘর্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর ঘরবাড়ি ভাংচুর, আসবাবপত্র ও গবাদিপশু লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বিকেল এবং মঙ্গলবার ওই গ্রামে দু'দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফের হামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে অর্ধেক গ্রাম।

স্থানীয় ও পুলিশ জানায়, নয়াকান্দি গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী ফায়জুলের স্ত্রীর বড় ভাই উপজেলার কদমতুলী গ্রামের আইয়ুব আলীর সঙ্গে নয়াকান্দি গ্রামের শিপনের বিদেশে ব্যবসা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। রোববার রাত ৯টায় শিপন তার বাড়ির সামনে আইয়ুবকে পেয়ে ব্যবসার টাকা ফেরত দিতে চাপ দেন। শিপনদের সঙ্গে ফায়জুলদের আগে থেকে মামলা চলে আসছিল। অন্যদিকে শিপনের ভাই রমজানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে একই গ্রামের আবেদীন মেম্বারের। রোববারের ঘটনার জেরে সোমবার বিকেল ৪টার দিকে রমজানের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালায় আবেদীনের লোকজন। এ সময় রমজানের লোকজনের পাল্টা হামলায় আবেদীন গ্রুপের ফজলু মেম্বারের ছেলে মো. শামীম (২৫) গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া সংঘর্ষকালে দু'পক্ষের আরও ১২ জন আহত হন। এদিকে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শামীম মারা গেছেন- এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে আবারও রমজানের বাড়িতে হামলা চালায় আবেদীনের লোকজন।

ফায়জুলের স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, আমার ভাইকে আটকে ওই মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় শিপন। এর পর শামীমকে কুপিয়েছে রমজান বাহিনী। আমরা কোনো লুটপাট করিনি। শামীম মারা গেছে- এমন গুজব শুনে রমজান ও তাদের লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে।

রমজান হোসেন জানান, আবেদীন মেম্বারের নেতৃত্বে আমার বাড়িতে দু'দফা হামলা চালানো হয়েছে। ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে জিনিসপত্রসহ গরু-ছাগল নিয়ে গেছে। তারা আমাদের প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে।

তিতাস থানার ওসি সৈয়দ আহসানুল ইসলাম বলেন, সোমবার বিকেল থেকে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় নাজমা বেগম ও আমির হোসেন বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছে। দুই মামলায় ডালিম, উজ্জ্বল ও নেকতার আটক রয়েছেন। তবে রমজানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।