খালেদা জিয়ার মুক্তি বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপে নেই সরকার -ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকার কোনো রকম আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে নেই। এমন কোনো চাপ অনুভব করছেন না তারা।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের যৌথ সভার পর সাংবাদিকদের কাছে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফল করতে এ যৌথ সভা হয়। ওবায়দুল

কাদের বলেন, বিএনপি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য উদ্বেগের পর্যায়ে আছে বলে সরকারের জানা নেই। মেডিকেল বোর্ডও এমন কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে যতটা না উদ্বিগ্ন, এর চেয়ে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনীতি করতেই বেশি অভ্যস্ত ও ব্যস্ত।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি বারবার বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। বিদেশিরাও কখনও বলেননি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খারাপ। তারা বলেছেন, বন্দি অবস্থায় যেন তার ভালো চিকিৎসা হয়। ভালো চিকিৎসা তো হচ্ছে। চিকিৎসকদের কাছ থেকে এ নিয়ে কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সোমবারের বৈঠক সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টে সমন্বয় নেই, ঐক্য নেই। ঐক্যফ্রন্ট ঐক্যবদ্ধ হোক, তাদের মধ্যে সমন্বয় হোক। কারণ একটি শক্তিশালী দায়িত্বশীল বিরোধী দল দেশের গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য শুভ।

বিএনপির নারী সাংসদ রুমিন ফারহানা শপথ নিয়েই 'একাদশ সংসদকে অবৈধ' বলায় তার প্রশংসা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তার সাহসের প্রশংসা করি যে, তিনি সংসদে এসেছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম তো জিতেও সংসদে আসেননি। সংসদে এসে তিনি সংসদ ও সরকারের বিরুদ্ধে বলুন- তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু সংসদ সদস্য হয়ে কীভাবে এই সংসদকে অবৈধ বললেন, তার মীমাংসা সংসদেই হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণিকা প্রকাশ, রচনা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং হালকা আলোকসজ্জা করা হবে।

এর আগে ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে যৌথ সভায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী নেতারা ছাড়াও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ও ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণের মেয়র এবং ঢাকা মহানগরের দলীয় সংসদ সদস্যরা যোগ দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এ কে এম এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ড. হাছান মাহমুদ, হাবিবুর রহমান সিরাজ, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, অসীম কুমার উকিল, সুজিত রায় নন্দী, অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম, শামসুন্নাহার চাঁপা, আমিনুল ইসলাম আমিন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান খান কামাল, মারুফা আক্তার পপি, আবুল হাসনাত, শাহে আলম মুরাদ, আতিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাইদ খোকন প্রমুখ।