জমে উঠেছে রাজশাহীর বানেশ্বর আমের হাট

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯

সৌরভ হাবিব, রাজশাহী

রাজশাহীর বৃহত্তম বানেশ্বর আমের হাট জমে উঠেছে। এ হাটে প্রতিদিন উঠছে হাজার হাজার মণ আম। তবে ভালো জাতের আম উৎপাদন কম হওয়ায় এবার দাম কিছুটা বেশি। অন্যবারের চেয়ে এবার আমের দাম প্রতি মণে তিনশ' থেকে পাঁচশ' টাকা বেশি। এতে চাষিরা উৎপাদন কম হওয়ার ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আম ব্যবসায়ীরা জানান, রোজায় আমের বেচাকেনা কম হলেও ঈদের পর ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি ক্রেতারা আসছেন। তারা প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক আম পাইকারি দরে কিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন।

বাজারে বিভিন্ন জাতের গুটি আম, গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাতি বা হিমসাগর আম উঠেছে। এক সপ্তাহ ধরে উঠতে শুরু করেছে ল্যাংড়া আম। প্রতিদিনই ক্ষীরশাপাতি আমের দাম মণপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা বাড়ছে। ক্ষীরশাপাতি আম শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই দাম বাড়তেই থাকবে। গোপালভোগ আমের দাম প্রতি মণ দেড় হাজার টাকায় শুরু হলেও এখন দুই হাজার ৬০০ থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্ষীরশাপাতি

আমের বাজার শুরু হয়েছিল এক হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে। এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে মান ভেদে দুই হাজার থেকে শুরু করে দুই হাজার ২০০ টাকা মণ দরে। তবে রাজশাহী শহরে একই আম বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৬০০ টাকা মণ পর্যন্ত। নতুন উঠছে ল্যাংড়া আম। এখন বাজারে চলছে এক হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার টাকা মণ পর্যন্ত। গত বছর লকনা বা লক্ষ্মণভোগ আমের ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এবারের চিত্র ভিন্ন। লকনা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১০০ থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, এবার আমের পরিমাণ খুবই কম। দ্রুত আম ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাই প্রতিদিনই মণপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে দাম বাড়ছে।

বাগান মালিকরা জানান, গতবারের চেয়ে এবার আমের উৎপাদন অর্ধেকেরও কম। পুঠিয়ার আমবাগান মালিক সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি দেড়শ'টি ক্ষীরশাপাতি আমের গাছ দেড় লাখ টাকা করে বছর ধরে ইজারা নিয়েছেন। এ বছর মাত্র ৩৫টি গাছে আম ধরেছে। দাম একটু বেশি হলেও এই সামান্য গাছের আম দিয়ে বাগানের ইজারামূল্য, ওষুধ ও শ্রমিকের খরচ উঠবে না।

বানেশ্বর হাটের আম ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, আম উৎপাদন কমের পাশাপাশি তীব্র গরমে সব আমই পেকে যাচ্ছে। তাই এবার আমের মৌসুম খুব বেশি দীর্ঘ হবে না।