সিলেটে চালু হচ্ছে নগর এক্সপ্রেস

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৯      

চয়ন চৌধুরী, সিলেট

গণপরিবহন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে 'নগর এক্সপ্রেস' চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি মিনিবাস রাস্তায় নামানো হবে। এর মধ্যে নারীদের জন্য পৃথক একটি বাস রাখার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এতে চালক ও সহযোগী নারী রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। নিটল মটরসের সহযোগিতায় সিটি করপোরেশন এই সেবা চালু করবে; পরীক্ষামূলকভাবে করপোরেশনের কর্মকর্তাদের জন্য এটি শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে গত এপ্রিলে নিটল মটরসের চেয়ারম্যান আব্দুল মাতলুব আহমাদের সঙ্গে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর আলোচনা হয়।

এদিকে গণপরিবহন সংকটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অতিরিক্ত অন্যান্য যানবাহনের চাপে যানজট বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। স্কুল শুরু ও ছুটির সময় রিকশা, অটোরিকশার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির চাপে বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘক্ষণ যানজট লেগে থাকে। আবার পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাবে স্কুল ছুটির পর নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, চৌহাট্টাসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দীর্ঘ সময় অনেক শিক্ষার্থীকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এ সংকট নিরসনের পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষামূলকভাবে স্কুলবাস চালুর উদ্যোগও নিয়েছে সিটি করপোরেশন।

সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিন শিহাব সমকালকে জানান, 'নগর এক্সপ্রেস' চালুর জন্য নিটল মটরসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০টি মিনিবাস আসার কথা। এরপর ধীরে ধীরে বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে। নিটলের উপহারের একটি মিনিবাস এখন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের অফিসে আনা নেওয়া করে। মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে নগর এক্সপ্রেসের রুট নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও প্রাথমিকভাবে নগরীর মেন্দিবাগ এলাকায় বাসের ডিপো করার কথা ভাবা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, নগরীর চলমান রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলেই 'নগর এক্সপ্রেস' চালু হবে। এই বাসে যেকোনো জায়গায় যেতে ১০ টাকা করে

ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রীরা টিকিট কেটে সেবা গ্রহণ করবেন। প্রাথমিকভাবে নগরীর ভেতরে বাসগুলো চলাচল করবে। প্রয়োজনে আশপাশের উপজেলায় যাতায়াত করবে।

এদিকে প্রাথমিকভাবে সিসিক পরিচালিত বীরেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ও চারাদীঘির পাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য ২৫ আসনের তিনটি স্কুল বাস চালু হচ্ছে। এই দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারবে। তবে স্কুল বাস চলাচলের রুটও চূড়ান্ত হয়নি বলে সিসিকের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে রুট চূড়ান্ত করে বাসগুলো রাস্তায় নামানো হবে। ইতিমধ্যে সিসিক অনুদান হিসেবে একটি বাস পেয়েছে জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে আরও দুটি আসবে।

এ উদ্যোগে সফলতা এলে নগরীর অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমূল্যে এই সেবা চালু হবে বলে জানিয়েছে সিসিক কর্তৃপক্ষ। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, নগরীর স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে সিটি করপোরেশন থেকে স্কুল বাস চালু করা হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশসহ সবার সঙ্গে আলোচনা করে সপ্তাহখানেকের মধ্যে এই সেবা চালু হবে।