গণশুনানিতে অভিযোগের পাহাড় টাওয়ারের রেডিয়েশন নিয়ে ভয়ের কিছু নেই :বিটিআরসি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

গণশুনানিতে বিটিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে টাওয়ারের রেডিয়েশনের যে ফল পাওয়া গেছে তা আন্তর্জাতিকমানের চেয়ে অনেক নিচে। এ কারণে এ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। টাওয়ারের চেয়ে বরং মোবাইল হ্যান্ডসেটের রেডিয়েশনের মাত্রা ও ঝুঁকি দুটিই বেশি। এদিকে গণশুনানিতে অংশ নিয়ে গ্রাহকরা তুলে ধরেন অভিযোগের পাহাড়। কলড্রপ, দুর্বল নেটওয়ার্ক, গ্রাহককে না জানিয়ে নিত্যনতুন প্যাকেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়া, গোপন চার্জ, ইন্টারনেটে কাঙ্ক্ষিত গতি না পাওয়া, ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভুতুড়ে ডাটা চার্জসহ অসংখ্য অভিযোগের কথা উঠে আসে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে। বিটিআরসির কাছ থেকে সমাধান না পাওয়া এমনকি বিটিআরসির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নানা জটিলতার কথা তুলে ধরেন গ্রাহকরা। গতকাল বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে টেলিযোগাযোগ খাতে সার্বিকভাবে গ্রাহকসেবার মান নিয়ে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়।

গণশুনানি কমিটির সভাপতি ও বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকের সভাপতিত্বে গণশুনানি সঞ্চালনা করেন সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক এবিএম হুমায়ুন কবির।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিশ্চয়ই কমিশন সমাধান করবে। কল সেন্টার সপ্তাহে ৫ দিন ছিল, এখন থেকে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে। ফেসবুকসহ ওয়েবসাইটে অভিযোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, অপারেটরের যারা আছেন, কী কী অভিযোগ এসেছে, সমস্যা কী তা শুনেছেন। গণশুনানির সঞ্চালক হুমায়ুন কবির জানান, শুনানিতে উত্থাপিত অভিযোগ সংক্রান্ত সমাধানের তথ্য আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।

আব্দুস সালাম নামে এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তিনি প্রতি সেকেন্ড পালসের প্যাকেজ কিনে কথা বললেও অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। রাজকুমার সাহা এবং জাকির হোসেন নামে দু'জন গ্রাহক মোবাইল ইন্টারনেট সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, গ্রামে থ্রিজি-ফোরজি দূরে থাক, টুজি সেবাও পাওয়া যায় না। অথচ ডাটা বান্ডলে ১০ থেকে ১২ গিগাবাইট ডাটা থাকার পরও ইন্টারনেট সংযোগ ঠিকমতো না পাওয়ার কারণে বিনা ব্যবহারে মেয়াদ শেষের পর তা গচ্চা যায়। গ্রাহকরা ইন্টারনেটের দাম কমানোর অনুরোধ জানান

এবং ইন্টারনেট প্যাকেজের মেয়াদ নূ্যনতম আট দিন করার প্রস্তাব দেন।

আতাউর রহমান নামে একজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, তার মা গ্রামে থাকেন এবং একটি ফিচার ফোন ব্যবহার করেন যেখানে গেম খেলার অপশন নেই। সেখানে ইন্টারনেট সেবাও চালু ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই অপারেটরের পক্ষ থেকে ৪৮ টাকা কেটে নেওয়া হয়। উম্মে কুলসুম নামে এক গ্রাহক জানান, তার ওয়াইম্যাক্স সংযোগের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ব্যালান্স ছিল। কিন্তু তার সংযোগ বিনা নোটিশে বন্ধ হয়ে যায় এবং পরে সংশ্নিষ্ট ওয়াইম্যাক্স অপারেটর এবং বিটিআরসিতে অভিযোগ করেও তিনি কোনো সমাধান পাননি।

রবিউল ইসলাম নামে একজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, একটি অপারেটরে তিনি তিন বার ভ্যালু অ্যাডেড সেবা নেন। কিন্তু তার টাকা কেটে নেওয়া হয় সাতবার। মাফি ইসলাম নামে এক গ্রাহক জানান, তিনি তার নামে ব্যবহূত বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করা সিমকার্ডে প্রতিস্থাপন সুবিধা পাননি। বরং অন্য একজন তার সিমকার্ডটি ব্যবহারের প্রমাণ পান। তিনি সংশ্নিষ্ট অপারেটর এবং বিটিআরসির কাছে অভিযোগ করে প্রতিকার পাননি।

গণশুনানিতে মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিটিআরসির অবস্থান বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরদের পক্ষে মনে হয়।

রেডিয়েশন সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসির মহাপরিচালক মাহফুজুল করিম মজুমদার বলেন, টাওয়ারের রেডিয়েশনের যে ফলাফল পাওয়া গেছে তা আন্তর্জাতিক মানের চেয়ে অনেক নিচে। এ কারণে ভয় পাওয়ার কিছু নয়। বরং টাওয়ারের চেয়ে ব্যবহূত মোবাইল হ্যান্ডসেটের রেডিয়েশনের ঝুঁকিটা বেশি, এটা বিবেচনায় রাখতে হবে। মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুজ্জামান বলেন, টাওয়ারের জন্য রেডিয়েশন হচ্ছে, ক্ষতি হচ্ছে- এটা অমূলক ধারণা। যদি ক্ষতি হতো তাহলে উন্নত দেশ মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না।