জেলার সোহেল রানা ও স্ত্রী-সন্তানদের অ্যাকাউন্টে ১৫ কোটি টাকা!

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৯      

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশনে মাদক, মোটা অঙ্কের এফডিআর, নগদ টাকাসহ গ্রেফতার চট্টগ্রাম কারাগারের সেই জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস, তার স্ত্রী-সন্তান ও শ্যালকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ২৬টি হিসাব পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব হিসাবে জমা আছে অন্তত ১৫ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও যশোরে কয়েকটি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় এসব টাকা রয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন ময়মনসিংহ দুদক কর্মকর্তারা।

এদিকে, কয়েক দিন আগে ওই ঘটনায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আবার পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দুদক ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সমন্বয়ক অফিস সূত্রে জানা গেছে। নতুন করে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ময়মনসিংহ দুদকের উপসহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধরকে। মামলাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য বারবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দুদকের একাধিক সূত্র।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাধন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, জেলার সোহেল রানা, তার স্ত্রী-সন্তান ও শ্যালকের এ পর্যন্ত ২৬টি ব্যাংক হিসাবে ১৫ কোটি টাকা লেনদেনের সন্ধান পেয়েছে দুদক। তবে সঠিক হিসাব পেতে সংশ্নিষ্ট ব্যাংকগুলোতে দুদকের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১২টি ব্যাংকের হিসাব বিবরণী তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সোহেল রানা গ্রেফতারের দু'দিন পরই জব্দ আড়াই কোটি টাকার এফডিআরের মধ্যে এক

কোটি টাকা তার শ্যালক ও স্ত্রী ময়মনসিংহের দুটি ব্যাংক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে উত্তোলন করে ফেলেন। এক কোটি টাকা তার স্ত্রী ও শ্যালক কোন মাধ্যম থেকে পেলেন এবং টাকার উৎসই বা কী- তারও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান সাধন চন্দ্র সূত্রধর।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের পৃথক তদন্ত কমিটি ঘটনার সঙ্গে আরও ৪৮ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে, যার প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সাধন চন্দ্র বলেন, প্রতিবেদনটি পেতে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র কয়েক দিন হলো। মামলাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষীর বক্তব্য নিতে হচ্ছে। তাই অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিতে আরও দুই মাস সময় লাগতে পারে।

কারা মহাপরিদর্শক কার্যালয়ের ডিআইজি (প্রিজন) বজলুর রহমান তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৪৮ জনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, যে কোনো তদন্তের বিষয় গোপনীয়। তাই এ ব্যাপারে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা উচিত হবে না।

গত বছরের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার নগদ টাকা, আড়াই কোটি এফডিআর, এক কোটি ৩০ লাখ টাকার বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, ১২ বোতল ফেনসিডিলসহ ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। ওই দিন চট্টগ্রাম থেকে আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে ময়মনসিংহে যাওয়ার পথে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন বিরতির সময় ভৈরব জিআরপি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।