ধর্ষিতাকে বিয়ে করেও কারাগারে জামালপুরের সেই শিক্ষা কর্মকর্তা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৯      

জামালপুর প্রতিনিধি

কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় মেলান্দহ উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গত রোববার জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে জামিন নিতে গেলে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হলেও গতকাল বুধবার বিষয়টি সাংবাদিকরা জানতে পারেন। ওই মামলার পর দুই বিঘা জমি ও পাঁচ লাখ টাকা কাবিনে ধর্ষণের শিকার গৃহপরিচারিকাকে বিয়ে করেন মাজেদুল ইসলাম। নববধূকে নিয়েই তিনি আদালতে জামিন নিতে গিয়েছিলেন। তবে ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত এক মাসেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামের জামালপুর সদর উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করত ওই কিশোরী। মাজেদুলের আরও এক স্ত্রী আছে। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর গৃহপরিচারিকাকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন মাজেদুল। ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে না বলতে হুমকিও দেন। এরপর তিনি বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। দুই মাস আগে নিজ খরচে এক যুবকের সঙ্গে তাকে বিয়ে দেন মাজেদুল। তবে বিয়ের দুই মাসের মাথায় মেয়েটি মৃত কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। গত ১১ মে সে জামালপুর সদর থানায় ধর্ষণ মামলা করে। মামলার ঘটনায় কিছুদিন পর কিশোরীকে জমি ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করেন মাজেদুল।

মেলান্দহ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাসলিমা পারভিন সমকালকে বলেন, অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তকর্তা শহিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, মাজেদুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বিভাগীয় পর্যায় থেকে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, কিশোরী ও তার মৃত কন্যাশিশু এবং অভিযুক্ত মাজেদুলের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে।