উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার মধ্যেও খুলনায় খাল দখল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৯

খুলনা ব্যুরো

খুলনার নদী ও খাল অবৈধ দখলমুক্ত করতে জরিপ করছে জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে ময়ূর নদ ও সংলগ্ন ৯টি খালের অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। শিগগির উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হবে।

এমন তোড়জোড়ের মধ্যে নগরীর সীমান্তবর্তী ফলইমারি খাল দখলের উৎসব শুরু হয়েছে। খালের মাঝখানে বাঁশ পুঁতে সীমানা দেওয়া হয়েছে। কিছু অংশে বালু ভরাট শুরু হয়েছে। বালুর ট্রাক যাতায়াতের জন্য প্রবহমান খালে বাঁধ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সড়ক। স্থানীয়রা বিষয়টি ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো ফল পাচ্ছেন না।

স্থানীয়রা জানান, ডুমুরিয়া উপজেলার চক আসানখালী মৌজায় ফলইমারি খালটি অবস্থিত। বর্তমানে শুস্ক মৌসুমে অন্যান্য খাল শুকিয়ে গেলেও এই খালটিতে এখনও পানি রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আশপাশের কয়েকটি খাল। বর্ষা মৌসুমে এই খাল দিয়ে অন্য খালে পানি প্রবাহিত হয়।

সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের ছুটি শুরুর কয়েকদিন আগে থেকে খাল দখল শুরু হয়। ঈদের ছুটির মধ্যেই খালের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় বাঁশ পুঁতে ঘেরাও করা হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে বালু ভরাট। খালকে বাঁচাতে আশপাশের জমির মালিকরা দখলে বাধা দিলেও তারা শুনছে না। প্রতি রাতে বালু এনে খালপাড়ে মজুদ করা হচ্ছে।

খাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খালের একটি অংশে বড় সাইন বোর্ডে লেখা- বায়না সূত্রে এই জমির মালিক নজরুল ইসলাম ঢালী। জমির পরিমাণ ১.৭৬ একর। সাইন বোর্ডের পাশেই ১০-১২ ফুট চওড়া বাঁধ দিয়ে পানিপ্রবাহ একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তি ছাড়াও আশপাশের অনেকে খালের মাঝে বাঁশ পুঁতে দখলের চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রশীদ ও ইউসুফ হোসেন জানান, কয়েক বছর আগেও এই খাল দিয়ে ময়ূর নদসহ বেশ কয়েকটি বড় খালে পানি নিস্কাশন হতো। বর্ষা মৌসুমে এই খাল দিয়ে এখনও নৌকা চলাচল এবং জেলেরা মাছ ধরেন। খালটি দখল ও ভরাট হয়ে গেলে পানি নিস্কাশন পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। তারা জানান, খালটি ভরাট করে একটি আবাসন প্রকল্পের রাস্তা তৈরি হচ্ছে বলে তারা শুনেছেন।

এ ব্যাপারে নজরুল ঢালীর ম্যানেজার জাহিদ হাওলাদার জানান, যে অংশটি বাঁশ দিয়ে ঘেরা হয়েছে, সেটি তাদের রেকর্ডীয় সম্পত্তির অংশ। খালের মাঝ বরাবর মাটি ভরাট করে যে বাঁধ দেওয়া হয়েছে, তা সাময়িক। কাজ শেষ হয়ে গেলে এই বাঁধ ভেঙে দেওয়া হবে। অন্যান্য অংশে অবৈধ দখলদারদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ কমিটির সদস্য সচিব ও খুলনা সিটি করপোরেশনের বৈষয়িক কর্মকর্তা নুরুজ্জামান তালুকদার সমকালকে বলেন, স্থানীয়রা মেয়রের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে দখলের সত্যতা পাওয়া গেছে। দখলদারদের উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনকে আমরা চিঠি দিয়েছি।

জেলা প্রশাসক হেলাল হোসেন বলেন, খাল দখল করে কেউ পার পাবে না। শিগগির এসব উচ্ছেদে অভিযান শুরু হবে।