মামলা প্রত্যাহারের কৌশল নান্দাইলে বয়স বেশি দেখিয়ে ধর্ষিতাকে বিয়ে

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৯

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহার করানোর কৌশল হিসেবে ধর্ষিতার সঙ্গে ধর্ষকের বিয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য ১৪ বছরের কিশোরীকে ১৯ বছর দেখিয়ে জন্ম নিবন্ধনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ইউপি সদস্য। ঘটনাটি ঘটেছে নান্দাইল উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নে। গত মঙ্গলবার ময়মনসিংহ শহরে এফিডেভিটের মাধ্যমে ওই বিয়ে সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ওই কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। আল ইসলাম ওরফে আবু মিয়ার (২৪) সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আবু মিয়া কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে গত ৩১ মে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে কিশোরী বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গ্রামের মাতবররা ঘটনাটি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠায়। কিন্তু পরে বিয়ের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় মেয়েটির পরিবার গত ১ জুন থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার পর অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ তৎপরতা দেখালে ধর্ষকের পরিবারের সদস্যরা মামলা প্রত্যাহার করতে কিশোরীকে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কৌশল অবলম্বন করে। একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার নির্যাতনের শিকার মেয়ে ও অভিযুক্ত ধর্ষককে নিয়ে ময়মনসিংহ আদালতে যান। সেখানে এফিডেভিটের মাধ্যমে ৬ লাখ টাকার দেনমোহর ও ২ লাখ টাকা উশুলে নিবন্ধনের কাজটি সম্পন্ন করে।

ফোনে বিয়ের কাজি রবিউল ইসলাম বলেন, বিয়েটি পড়ালেও তিনি কাজি নন। তার চাচা আব্দুল মান্নান মূল কাজি। এদিকে কিশোরীর বিদ্যালয়ের প্রত্যয়নপত্রে তার জন্ম তারিখ রয়েছে ২০০৫ সালের ১৫ আগস্ট। কিন্তু মেম্বারের দেওয়া জন্ম নিবন্ধন সনদে জন্ম তারিখ লেখা হয়েছে ২০০০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ইউপি সদস্য রাফিউল হাফিজ রুকন বলেন, উভয়ের পরিবার বিষয়টি মীমাংসার জন্য তার কাছে এলে ১৯ বছর দেখিয়ে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করে দিই।