বানিয়ারচর গির্জায় বোমা হামলার ১৮ বছর বিচারের জন্য আর কত অপেক্ষা

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০১৯      

মনোজ সাহা, গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বানিয়ারচর ক্যাথলিক গির্জায় বোমা হামলার ১৮ বছর পার হয়েছে গতকাল সোমবার। মর্মান্তিক ওই জঙ্গি হামলায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ১০ জনের প্রাণহানি ঘটে। কিন্তু দীর্ঘ ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও ওই হামলার বিচারই শুরু হয়নি। এ কারণে নিহতদের স্বজনের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা। বিচারের জন্য আর কতদিন অপেক্ষা করবেন- এমন প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

বোমা হামলার ঘটনায় নিহত সুমন হালদারের বাবা শুখরঞ্জন হালদার বলেন, 'এ ঘটনায় দায়ে করা হত্যা ও বিস্টেম্ফারক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২২ বার বদল হয়েছেন। এ কারণে সিআইডি অভিযোগপত্রও দেয়নি। ফলে আদালত বিচার কাজ শুরু করতে পারছে না। আমরা বিচারের জন্য আর কতকাল অপেক্ষা করব। আমি দ্রুত এ বোমা হামলার বিচার চাই।'

২০০১ সালের ৩ জুন বানিয়ারচর ক্যাথলিক গির্জায় সাপ্তাহিক প্রার্থনা চলাকালে বোমা হামলায় প্রার্থনারত ১০ জন নিহত হন। আহত হন অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ। নিহতরা হলেন- রক্সিড জেত্রা, বিনোদ দাস, মন্মথ সিকাদার, সঞ্জীবন বাড়ৈ, পিটার সাহা, অমর বিশ্বাস, সতীশ বিশ্বাস, ঝিন্টু মণ্ডল, মাইকেল মল্লিক ও সুমন হালদার।

এ ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় ওই গির্জার তৎকালীন ফাদার পিতাঞ্জা মিম্মো বাদী হয়ে হত্যা এবং পিটার বৈরাগী বাদী হয়ে বিস্টেম্ফারক আইনে দুটি মামলা করেন। এসব মামলায় আসামি করা হয় ৩৭ জনকে। থানা থেকে মামলা দুটির তদন্তের জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়। দুই মামলার প্রধান আসামি হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি মাওলানা আব্দুল হান্নান মুন্সির ফাঁসি অন্য মামলায় কার্যকর হয়েছে। এ ছাড়া এই মামলার ১২ আসামি জামিনে রয়েছে। পলাতক রয়েছে ছয়জন এবং কারাগারে আছে সাত আসামি।

বানিয়ারচর গির্জার ফাদার ফরেজা রোম রিকো গমেজ বলেন, ঘটনার ১৮ বছর পার হলেও বিচার শুরু করা হয়নি। নিহতদের স্বজনরা ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আমি দ্রুত এ ঘটনায় চার্জশিট আদালতে দাখিল করে বিচার শুরুর দাবি জানাই।

তিনি বলেন, নিহতদের স্মরণে গতকাল গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা, শোক র‌্যালি, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন, সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিকেলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম বলেন, ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সিআইডি এখন পর্যন্ত এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করতে পারেনি। সিআইডি দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট জমা দিলেই বিচার কাজ শুরু হবে।

সিআইডির গোপালগঞ্জ ক্যাম্পের ওসি ফতেহ মো. ইফতেখারুল আলম বলেন, এ মামলা দুটিতে বেশ কয়েকজন জঙ্গি সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।