তরুণদের ডায়াবেটিস ঝুঁকি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০১৯      

ডা. শাহজাদা সেলিম

সহকারী অধ্যাপক

এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অল্প বয়সে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে। গর্ভাবস্থা ও নবজাতকের পুষ্টির অভাবও এ রোগ বৃদ্ধির বিশেষ কারণ। সমাজের ভবিষ্যৎ যারা, তারাই যদি অল্প বয়সে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে দেশ বিপদে পড়বে। এই অসুস্থ যুবসমাজ অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে সমাজের কাছে। কিছুদিন আগেও অল্প বয়সের ডায়াবেটিস অর্থাৎ টাইপ-১ বা ইনসুলিননির্ভর ডায়াবেটিস বলে প্রায় সর্বক্ষেত্রে ধরা হতো। কিন্তু ইদানীং স্থূলকায় শিশুদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। অল্প বয়সীদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের হার ১৯৯২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী

ছিল ২ থেকে ৪ শতাংশ। এখন তা ৮ থেকে ৪৫ শতাংশ। অল্প বয়সীদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিবারে কারও না কারও ডায়াবেটিস রোগ থাকে। এদের মধ্যে ৪৫ থেকে ৮০ শতাংশের বাবা-মা একজনের আর ৭৮ থেকে শতভাগের ক্ষেত্রে বাবা বা মায়ের বংশধরদের মধ্যে ডায়াবেটিসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

বাবা-মা দু'জনের যদি ডায়াবেটিস থাকে তবে সন্তানের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। আর একজনের থাকলে আশঙ্কা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। বাবার তুলনায় মায়ের ডায়াবেটিস বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় সন্তানের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি। অল্প বয়সে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের কারণ হলো ভাইরাসজনিত অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ; ফলস্বরূপ ইনসুলিনের অভাব। পুষ্টির অভাবে গর্ভাবস্থা ও জন্মের পর ইনসুলিন নিঃসরণকারী বিটাসেলের অপরিমিত বৃদ্ধি প্রধান কারণ। অল্প বয়সে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে স্থূলতার হার, যাদের ডায়াবেটিস নেই তাদের চেয়ে অনেক বেশি। আর বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে মোটা হওয়ার প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে। ছোটরা পরিশ্রম ও খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত। খাওয়া-দাওয়া প্রধানত এখন চটজলদি ফাস্টফুড বা ফ্রায়েড চিপস্‌ চকোলেট। খেলাধুলার বদলে টিভির কার্টুন দেখেই সময় কাটায়। এ কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই ডায়াবেটিস শনাক্তে পরীক্ষা করুন। শুরুতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন, ভালো থাকুন।

অনুলিখনঃ রাজবংশী

সম্পাদনা-ইলিয়াস