দাম চড়া মাংস মসলার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

রমজানের শুরুতে অনেক নিত্যপণ্যের দাম যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বেড়েছিল। সেই বাড়তি দাম তখন স্থায়ী হয়নি, সপ্তাহের ব্যবধানে

কমে এসেছিল। তবে ঈদে বাড়তি চাহিদা থাকায় নিত্যপণ্যের দাম

বেড়েছে। রমজানের শুরুর দিকের মতো ফের একইভাবে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে বাজারে মাংস ও মসলার দাম চড়া। ঈদের ছুটির আগের দিন গতকাল সোমবার রাজধানীর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর কাঁচাবাজারে গতকাল ক্রেতার তেমন ভিড় ছিল না। পণ্যও ছিল অন্য দিনের তুলনায় কম। এর পরেও বাজারে এ পণ্যগুলো চড়া দামেই বিক্রি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজধানীতে বাজার তদারকি জোরদার ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর। ঈদের ছুটির কারণে গত চার দিন ধরে বাজার তদারকি না থাকায় সুযোগ নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সিটি করপোরেশন নির্ধারিত দর না মানার বিষয়ে মাংস ব্যবসায়ীদের ঘোষণায় কয়েকদিন ধরে গরুর মাংস চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। যদিও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মাংস ব্যবসায়ী সমিতি আগের দামে বিক্রির ঘোষণা দিলেও বাজারে তা কার্যকর হয়নি।

সিটি করপোরেশন নির্ধারিত দর অনুযায়ী ৫২৫ টাকায় প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হওয়ার কথা। এর চেয়ে কেজিতে ৭৫ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে ৬০০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে মাংসের মান ভেদে অনেক বিক্রেতাকে ৫৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা গেছে। খাসির মাংসের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ৮০০ টাকায় ঠেকেছে।

এদিকে বাজারে রোজার শুরুর দিকে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ছিল ১৬০ টাকা। পরে তা কমে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় নেমে আসে। সোমবার মোহাম্মদপুরের টাউনহল বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। মিরপুরের পীরেরবাগ বাজারে বিক্রি হয়েছে দেড়শ' টাকা কেজিতে। পীরেরবাগ বাজারের বিক্রেতা আলামিন বলেন, ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। এখন দাম স্থিতিশীল নেই। যে যেমন খুশি তেমন দামে বিক্রি করছে। তবে খামারেও আগের চেয়ে দাম

কিছুটা বাড়তি। ব্রয়লার ছাড়াও সোনালি মুরগি কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ২৮০ টাকায় উঠেছে। লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজিতে।

চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, রসুন, আদা। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগি, পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বেড়েছে। এর মধ্যে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদার দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। চীনা রসুনের কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আদার দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। অন্যান্য মসলার দামও বাড়তি। চীনা আদা ১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও ইন্দোনেশিয়ার আদা ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে কম দামে মিলছে সবজি। বেশির ভাগ সবজি প্রতি কেজি ২০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে কাঁচামরিচ কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া লেবুর হালি এখনও বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। অন্যান্য পণ্যের দাম অনেকটা স্থিতিশীল আছে।