মধ্যরাত পর্যন্ত কেনাকাটা

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০১৯      

দীপন নন্দী

ঈদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সবাই। যারা আগে ঈদের কেনাকাটা করতে পারেননি বা করেননি তারা এখন ভিড় জমাচ্ছেন দেশি-বিদেশি বুটিক হাউসগুলোর শোরুমে। অনেকেরই এখনও জুতা কেনা বাকি। আর সে জন্যই রাজধানীর জুতার দোকানগুলোতে এখন পা ফেলার জো নেই। বেশ ভিড় আছে গহনা, কসমেটিকস আর আতর-টুপির দোকানেও। আর ঈদের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় রাতদিন বলে আলাদা কিছু নেই। মধ্যরাতেও বিপণিবিতানগুলোতে থাকছে উপচেপড়া ভিড়।

রোববার রাত ৯টার দিকে বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে মানুষ আর মানুষ। সেখানকার দেশীদশের নিপুণের ব্যবস্থাপক মেজবাউর রহমান বললেন, রাত ২টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা থাকে। যতক্ষণ খোলা ততক্ষণই মানুষ। এ ভিড় রাত ১১টার পর আরও বেশি থাকে।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি ও নিউমার্কেট এলাকার বিপণিবিতানগুলোতে রোববার রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সরেজমিন দেখা যায়, সময় যতো গড়িয়েছে ততই ভিড় বেড়েছে।

মধ্যরাতেও বেচাকেনায় দম ফেলার সময় নেই বিক্রয়কর্মীদের। দিনে নারী ক্রেতার ভিড় বেশি থাকলেও রাতে উল্টো চিত্র। এ সময় তরুণ ও পুরুষ ক্রেতারা বিপণিবিতানগুলোতে বেশি ভিড় করছেন। তবে নারী ক্রেতার সংখ্যাও নেহাত কম নয়।

বসুন্ধরা সিটির আনিকা ফ্যাশন নামে এক পোশাকের দোকানের বিক্রয়কর্মী হাসান জানান, শুরুর দিকে শিশুকিশোর ও নারীদের পোশাক বেশি বিক্রি হলেও এখন সব বয়সীর পোশাক বিক্রি হচ্ছে।

নিউমার্কেট, চাঁদনীচক ও গাউছিয়ায় গিয়ে দেখা যায়, মধ্যরাতেও ক্রেতার ভিড়। অনেক ক্রেতাকে শপিংমলটির সামনে বসে বিশ্রাম নিতেও দেখা যায়।

ভিড় বেশি ফুটপাতে :গতকাল সোমবার ছিল শেষ কর্মদিবস। বেশিরভাগ গার্মেন্টগুলো এদিনই বোনাস দেয় কর্মচারীদের। স্বল্প আয়ের এসব কর্মজীবী গতকাল ভিড় জমান রাজধানীর ফুটপাতগুলোতে। বিকেলের পর থেকেই জমতে শুরু করে ফুটপাতের কেনাকাটা। ফুটপাতের সবচেয়ে বড় বাজার বসেছে গুলিস্তান এলাকায়। এ ছাড়া পল্টন মোড়, ঢাকা কলেজের বিপরীতের রাস্তা, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ফার্মগেট, নিউমার্কেট, মৌচাক মার্কেটের সামনে, মিরপুর-১সহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতের বাজার স্বল্প আয়ের মানুষের কেনাকাটার বড় কেন্দ্র।

গুলিস্তানের ফুটপাতের দোকানগুলোতে ছেলেদের শার্ট, গেঞ্জি, টিশার্টের দোকান সবচেয়ে বেশি। রেডিমেড প্যান্টের কালেকশন কম হলেও ননস্টিচ প্যান্টের কাপড় পাওয়া যায় ভালোই। গুলিস্তানের ফুটপাতের জুতার বাজারের কালেকশনও বেশ ভালো। সঙ্গে যোগ হয়েছে চামড়ার বেল্টের বড় বাজার।

মানের দিক থেকে গুলিস্তানের চেয়ে ভালো শার্ট ও প্যান্ট পাওয়া যায় ঢাকা কলেজের ফুটপাতসংলগ্ন দোকানগুলোতে। এখানে গার্মেন্টের স্টক লটের শার্টও মাঝে মাঝে পাওয়া যায় বেশ কম দামে। গাউছিয়া ও নিউমার্কেটের ফুটপাত ঘিরে রয়েছে মেয়েদের পোশাক ও স্যান্ডেলের বিশাল বাজার। মেয়েদের সালোয়ার কামিজ ও ননস্টিচ থ্রিপিসের দোকান বসে এসব ফুটপাতে। এসব দোকানের কাপড়ের মান বেশ ভালো এবং দামও কম।

সময় এখন পাঞ্জাবি কেনার :নতুন পাঞ্জাবি ছাড়া পুরুষের ঈদের আনন্দ যেন অনেকাংশেই ফিকে হয়ে যায়। ফলে ঈদের নতুন পোশাকের তালিকায় আর কিছু থাক আর না থাক পাঞ্জাবি থাকবেই। রাজধানীর বড় বড় বিপণিবিতানের পাশাপাশি শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, মৌচাক মার্কেট সংলগ্ন আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স, গুলিস্তানের পীর ইয়ামেনী মার্কেটসহ সর্বত্র

এখন পাঞ্জাবি কেনার ধুম।

চলছে আতর-টুপি কেনার হিড়িক :নতুন পোশাক কেনা শেষে এখন সবাই ভিড় জমাচ্ছেন আতর, টুপি আর জায়নামাজের দোকানে। সুরমা আর তসবিহও কিনছেন অনেকে। বড় বড় বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানে দোকানে এখন আতর-টুপি কেনার ভিড়। বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট, গুলিস্তান, নিউমার্কেট, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, মৌচাক মার্কেট, কাকরাইল মসজিদ মার্কেটসহ রাজধানীর সবখানেই পাওয়া যাচ্ছে ঈদের নামাজের এই প্রধান অনুষঙ্গ।