নতুন ২৬ পরিবেশ আদালত গঠনের প্রস্তাব ফাইলবন্দি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০১৯      

আবু সালেহ রনি

পরিবেশদূষণ সংক্রান্ত অপরাধের বিচার ত্বরান্বিত করতে দেশের আরও ১৯ জেলায় একটি করে 'পরিবেশ আদালত' এবং সাত বিভাগীয় শহরে পৃথক 'পরিবেশ আপিল আদালত' গঠনের প্রস্তাব দুই বছর ধরে 'ফাইলবন্দি' হয়ে আছে। ২০১৭ সালে আইন মন্ত্রণালয় থেকে নতুন ২৬টি পৃথক আদালত গঠনের পাশাপাশি বিচারকসহ ১২৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ সৃজনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু দুই বছরেও নতুন পরিবেশ আদালত গঠন সংক্রান্ত ওই প্রস্তাব কার্যকর হয়নি।

পরিবেশ আইন ২০১০ অনুসারে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি আদালত গঠনের বিধান থাকলেও বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি পরিবেশ আদালত এবং ঢাকায় একটি পরিবেশ আপিল আদালত কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া প্রচলিত অন্যান্য আদালতের যুগ্ম জেলা জজকে অতিরিক্ত বিচারিক দায়িত্ব দিয়ে বরিশাল, রংপুর, নীলফামারী ও সিলেটে আরও চারটি আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে পর্যাপ্ত আদালত না থাকায় পরিবেশদূষণ সংক্রান্ত মামলার বিচার বিলম্বের পাশাপাশি মামলা পরিচালনায়ও বাদী-বিবাদীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, 'খোজ নিয়ে দেখতে হবে। কী কারণে এটি কার্যকর হয়নি।' পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব কাজী মুশফিক মাহবুব রবিন সমকালকে বলেন, ২৬টি নতুন পরিবেশ আদালত গঠনের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যা চেয়েছে। আমরা সেগুলোর জবাব প্রস্তুত করছি। আশা করছি বিধি অনুসরণ করে নতুন আদালত গঠন করা সম্ভব হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরিবেশ আদালতে ফৌজদারি এবং দেওয়ানি মিলিয়ে চার হাজার ৩৭৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ফৌজদারি তিন হাজার ৮২৮ ও দেওয়ানি ৫৪৫টি। অন্যদিকে বরিশাল, রংপুর, নীলফামারী ও সিলেটে ১৮টি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় অবস্থিত একমাত্র পরিবেশ আপিল আদালতও বর্তমানে প্রায় অকার্যকর হয়ে আছে। নতুন ২৬টি আদালত গঠন করা হলে সংশ্নিষ্ট জেলা ও আশপাশের এলাকার ক্ষতিগ্রস্তরা পরিবেশদূষণ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করতে উৎসাহী হবেন। পাশাপাশি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হলে বাদী-বিবাদীপক্ষের খরচ ও ভোগান্তি নিরসন হবে।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নতুন ২৬টি আদালত গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় বিচারকসহ ১২৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ সৃজনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। ১৯টি জেলা হলো- গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ফেনী, নোয়াখালী, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, কুষ্টিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর, কক্সবাজার, বাগেরহাট, রাজশাহী ও রংপুর। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা,

সিলেট, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে একটি করে পরিবেশ আপিল আদালত গঠনের জন্য প্রস্তাবে করা হয়।

এদিকে পর্যাপ্ত পরিবেশ আদালত না থাকায় পরিবেশ সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতেও দেখা দিয়েছে ধীরগতি। অথচ বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার পার্শ্ববর্তী চার নদীর দূষণ রোধে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক মামলার রায়ে পরিবেশ আদালতের মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের পরিসংখ্যান বলছে, পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে বর্তমানে এক হাজার ৫৯৩টি পরিবেশ সংক্রান্ত মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এইচআরপিবির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ সমকালকে বলেন, পর্যাপ্ত সংখ্যাক পরিবেশ আদালত না থাকায় পরিবেশদূষণ রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অনেক ক্ষেত্রে ভরসা হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু সেটিও পর্যাপ্ত নয়। কারণ মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়ে থাকে। বিশেষ করে ঢাকায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে কখনও পরিবেশের সুরক্ষা করা সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবেশ আদালত গঠনের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরও জোরদার করারও তাগিদ দেন তিনি।