কুমিল্লা ও ধামরাইয়ে সড়কে প্রাণ গেল ৭ গার্মেন্ট কর্মীর

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০১৯      

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা; বুড়িচং ও ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পুলিশের গাড়িচাপায় তিনজন ও ঢাকার ধামরাইয়ে বাসের ধাক্কায় পিকআপ ভ্যান থেকে পড়ে চারজন গার্মেন্ট কর্মী নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আরও ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার সংলগ্ন চানন্দুল ও রাত ৮টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের কালামপুরে এসব ঘটনা ঘটে।

চৌদ্দগ্রাম মিয়াবাজার হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মনজুরুল হক জানান, ফেনী পিবিআইয়ে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান গতকাল ফেনী থেকে গাড়ি নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চানন্দুল এলাকায় তাকে বহনকারী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে অপেক্ষমাণ নারী শ্রমিকদের চাপা দিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এতে ৮-৯ জন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও একই গাড়িতে থাকা একজন পুলিশ পরিদর্শক ও দু'জন কনস্টেবল সামান্য আহত হয়েছেন। তবে তারা নিরাপদে আছেন।

নিহতরা হলেন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার জগপুর গ্রামের তানজিনা আক্তার (২৮) ও কাজল বেগম (৩২) এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের নাছিমা আক্তার (৩৬)। আহত শ্রমিকরা জানান, তারা সবাই ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং মিলের শ্রমিক। কারখানা ছুটি শেষে তারা গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ পুলিশের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের চাপা দেয়। এদিকে পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় সাভারের বাইপাল থেকে বিভিন্ন পোশাক

কারখানার ৩৫-৪০ শ্রমিক ঈদের ছুটি পেয়ে একটি পিকআপ ভ্যানে রাজবাড়ীর উদ্দেশে রওনা দেন। পিকআপ ভ্যানটি (ঢাকা মেট্রো-ন-১৩০৯১১) ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের কালামপুর বিল ট্রেড কারখানার সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা যাত্রীবাহী একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। বাসটি ওই সময় পিকআপটিকে ওভারটেক করছিল। ধাক্কায় পিকআপ ভ্যান থেকে ৭-৮ জন যাত্রী সড়কের ওপর পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে দু'জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন রাজবাড়ী সদরের কাচন্দ্র গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে নজরুল ইসলাম ও মাগুরা সদরের মাধবপুর গ্রামের সারোয়ার হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নিহত মেহেদীর মামা আব্দুল মোতালেবকে কালামপুর প্লাজা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহতরা সবাই রাজবাড়ী ও মাগুরা জেলার বাসিন্দা।

ধামরাই থানার ওসি মাসুদুর রহমান জানান, নিহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘাতক বাসের চালক ও হেলপারকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনার পর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।