জালিয়াতি ও প্রতারণাই তার পেশা

জাল স্ট্যাম্প ও টাকাসহ গ্রেফতার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

জাল স্ট্যাম্প ও জাল টাকা তৈরির চক্র গড়ে তোলে খন্দকার কবির হোসেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে ঘরের মধ্যেই জাল টাকা ও স্ট্যাম্প প্রস্তুত করে সে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের আশঙ্কায় কখনোই এক বাসায় দীর্ঘদিন থাকেনি।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তার গড়া জালিয়াত চক্রের একাধিক সদস্য রয়েছে। সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর কারাগারে রয়েছে ৫৮ বছর বয়সী কবির। জাল-জালিয়াতি করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা এবং অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই তার পেশা। ঢাকা ও ফরিদপুরে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার একাধিক মামলা রয়েছে।

জানা গেছে, কবির হোসেনের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার আইনপুরে। থাকে ঢাকায়। দীর্ঘদিন ধরে জাল স্ট্যাম্প ও জাল নোট তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করে আসছিল সে। তার অন্যতম দুই সহযোগী বশির ও আবু তাহের। সে জাল স্ট্যাম্প এমনই নিখুঁতভাবে তৈরি করে যে, তা আসল নাকি নকল সহজে বোঝার উপায় থাকে না। আর জাল স্ট্যাম্পের বিষয়ে সাধারণত ক্রেতারা সতর্ক থাকেন না।

সম্প্রতি কবির হোসেন ও তার চক্রের সন্ধান পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে খিলগাঁও কমিউনিটি সেন্টারের পাশে মাইক্রোবাসে জাল স্ট্যাম্প ও জাল টাকা নিয়ে সরবরাহের জন্য অবস্থান করছিল কবির এবং তার দুই সহযোগী বশির ও তাহের। এ সময় ডিবির একটি টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে বশির ও তাহের পালিয়ে যায়। মাইক্রোবাসহ গ্রেফতার হয় কবির। তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল স্ট্যাম্প ও জাল টাকা জব্দ করা হয়। ডিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জাল স্ট্যাম্প ও জাল নোট তৈরি এবং বিক্রির কথা স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে।

গ্রেফতারের পর কবিরের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবির এসআই আশরাফুল আলম। তিনি সমকালকে বলেন, কবিরের সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।