মেহেদি রাঙানো হাতে ঈদ উৎসব

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০১৯      

সাজিদা ইসলাম পারুল

'ঈদের আগের সন্ধ্যায় মেহেদি গাছের পাতা বেটে মিহি করে হাতে লাগাতাম। বাড়ির ছোট-বড় সবাই এ আনন্দে সামিল হতো। লাল টকটকে রাঙা রঙ পেতে বাটা মেহেদির সঙ্গে খয়ার মেশাতাম। সে যে কী আনন্দ!' সম্প্রতি এক মেহেদি উৎসবে কথাগুলো বলছিলেন কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীন। একই সুরে কথা বললেন মমতাজ হারবাল প্রোডাক্টসের জেনারেল ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার শাওন। তিনি বলেন, 'শৈশব-কৈশোরে ছেলে-বুড়ো সবাই বাড়ির বড় বোনদের কিংবা মা-খালাদের আশায় বসে থাকতাম, হাতে কখন মেহেদি লাগিয়ে দেবেন?'

মেহেদির রঙে হাত সাজাতে বাড়তি উৎসাহ নিয়ে বিভিন্ন পার্লারের বিউটিশিয়ানদের কাছে যাচ্ছেন নারীরা। আগে দেখা যেত, বাড়ির কোনায় লাগানো মেহেদি গাছের পাতা বেটে কাঠি দিয়ে হাতে নানা রকম ডিজাইন করে হাত সাজানো হতো। কিন্তু সময় পাল্টেছে। আধুনিকতার এই যুগে মেহেদি লাগানোর মধ্যেও এসেছে শৈল্পিকতার ছোঁয়া। এখন বাটা মেহেদির জায়গা দখল করেছে টিউবে থাকা মিহি মেহেদি। ফলে পাতা মেহেদির পরিবর্তে বাজারে আসা নানা রকম টিউব মেহেদিই ব্যবহার করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। মেহেদির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর নকশায়ও অনেক পরিবর্তন এসেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বিউটি পার্লার ঘুরে দেখা যায়, মেহেদির রঙে হাত সাজাতে বিউটিশিয়ানদের জন্য অপেক্ষা করছেন সেবাগ্রহীতারা। এমনই একজন বাড্ডার সুমাইয়া আরেফিন। তিনি তার একমাত্র মেয়ে রাফিয়ার হাত মেহেদিতে সাজাতে এসেছেন। তিনি জানান, মেহেদি না দিলে তার ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণতা পায় না।

দেখা গেছে, প্রতিটি পার্লারেই রয়েছেন মেহেদি দেওয়ার জন্য বিশেষায়িত বিউটিশিয়ান বা কর্মী। লামীম বিউটি পার্লারের স্বত্বাধিকারী আসমা হাসনাত সমকালকে বলেন, মেহেদি লাগানোর ক্ষেত্রে একটি শৈল্পিক দিক রয়েছে। এর অঙ্কন পদ্ধতি ও মাধুর্য ফুটিয়ে তুলতে কৌশল অবলম্বন করতে হবে। অঙ্কন পদ্ধতিতে এর মোটিভগুলো ফুটিয়ে তুলতে হবে।

পথশিশুদের মেহেদি উৎসব :সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কথা চিন্তা করে প্রতি বছরের মতো এবারও শিশুদের নিয়ে ঈদ উৎসবের আয়োজন করেছে 'চাইল্ডড্রিম সোসাইটি' ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'সম্ভাবনা'। গত শুক্রবার রাজধানীর মিরপুরের সাগুফতায় ৪০ পথশিশুর মধ্যে ঈদ উপহার তুলে দেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক লেখক ও সাংবাদিক সুমন্ত আসলাম। তিনি সমকালকে বলেন, 'শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই প্রতিটি শিশুকে আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে বড় করে তোলা আমাদের দায়িত্ব। মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত মোট ৪০ শিশুকে আমরা পাঠদান করে থাকি। একইসঙ্গে তাদের মধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের উপহার তুলে দেওয়া হয়েছে। উপহারসামগ্রী হিসেবে প্রতিটি প্যাকেটে ছিল নতুন পোশাক ও সাজসজ্জার উপকরণ। তাদের ঈদের সাজে পরিপূর্ণতা দিতে হাতে মেহেদি লাগিয়ে দেওয়া হয়।'