খুলনার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে পরিকল্পনা ৩৩৭ কোটি টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০১৯      

হাসান হিমালয়, খুলনা

সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা এবং রাস্তাঘাটে ময়লা-আবর্জনার যন্ত্রণায় খুলনা মহানগরীর মানুষের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। নাগরিকদের এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এবার নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় করতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। 'খুলনা সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন' নামে প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। চলতি মাসেই এটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

নতুন এ পরিকল্পনায় আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে বর্জ্য দ্রুত নগরীর বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে। সারাবছর ধরেই নগরীর ড্রেন ও খালগুলো খনন করা হবে। সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ করে রাস্তার বর্জ্য নিয়ে যাওয়া হবে চোখের আড়ালে।

কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে জানা গেছে, ১৫ লাখ মানুষের নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ টন গৃহস্থালি বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে ৩১৫ টন বর্জ্য রাজবাঁধ ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলে কেসিসি। বাকি ১৩৫ টন বর্জ্য নগরীর ভেতরেই থেকে যায়। এতে নগরীর সড়ক ও ড্রেনগুলো বর্জ্যের স্তূপে পরিণত হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, আধুনিক যন্ত্রের অভাবে এখনও বর্জ্য অপসারণ করতে হয় শ্রমিক দিয়ে। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শতভাগ সফল করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া বর্জ্য রাখার জায়গারও অভাব রয়েছে। আধুনিক যন্ত্র সংযোজনের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্যই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

নতুন এ প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৭৭টি স্পটে ড্রেনের ভাসমান পয়েন্টে জিআই নেট ও অ্যাঙ্গেল স্থাপন, ৭ কিলোমিটার খোলা ড্রেনের পাশে এসএস রেলিং নির্মাণ, বর্জ্য অপসারণের জন্য ৫০টি কনটেইনারসহ বিশেষায়িত ১০টি ট্রাক, নদী ও খালের মাটি এবং বর্জ্য অপসারণের জন্য ভাসমান এক্সক্যাভেটর, লং বুম এক্সক্যাভেটর, ৭টি রাভার প্রোটেকটেড কম্পাটর এক্সক্যাভেটর, হুইল লোডার ও গার্বেজ লোডার ১৬টি, ওয়েব্রিজ স্কেল একটি, ১০ চাকার ট্রাক র‌্যাকার, বিভিন্ন ধরনের কনটেইনার ৫৭০টি এবং ৩০টি ট্রাক কেনা হবে।

এ ছাড়া নতুন ১৫টি এসটিএস নির্মাণ, সড়কের পাশে অস্থায়ী ১০টি এসটিএস নির্মাণ, মাথাভাঙ্গা এলাকায় ২৫ একর জমিতে নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড নির্মাণ করা হবে। যন্ত্রপাতি ও গাড়ি রাখার জন্য তিনতলা একটি ভবন, ২ হাজার ২৩৫ বর্গমিটারের মেটালিক গ্যারেজ শেড এবং গাড়ি রাখার পার্কিং টাওয়ার নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া মশা নিধনের জন্য ২০০টি ফগার মেশিন, ৩০০টি স্প্রে মেশিন এবং ২০ হাজার লিটার তেল কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি এবং অল্প জনবল ব্যবহার করে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃষ্টান্ত হবে খুলনা।