আলমডাঙ্গায় পুলিশের হাতে শাশুড়ি নিহত

কুমিল্লায় জামাতার বিরুদ্ধে শ্বশুর খুনের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০১৯      

চুয়াডাঙ্গা ও বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

আলমডাঙ্গায় পুলিশের হাতে শাশুড়ি নিহত

অসীম কুমার ভট্টাচার্য

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় শাশুড়িকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার মাদ্রাসাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত অসীম কুমার ভট্টাচার্য পলাতক। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সিআইডি বিভাগে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। এদিকে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় জামাতার হাতে শ্বশুর খুনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আলমডাঙ্গায় নিহতের নাম শেফালী অধিকারী (৪৭)। এ ঘটনায় তার মেয়ে ফাল্কগ্দুনী অধিকারী, ছেলে আনন্দ অধিকারী ও স্বামী সদানন্দ অধিকারী আহত হয়েছেন। এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে। পারিবারিক  কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, অসীম ও তার স্ত্রী ফাল্কগ্দুনী আলমডাঙ্গা কলেজপাড়ার ভাড়াবাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। পারিবারিক কলহের কারণে শুক্রবার রাতে ফাল্কগ্দুনী পাশের মহল্লার মাদ্রাসাপাড়ায় তার বাবার বাড়িতে অবস্থান নেন। পরে রাত ২টার দিকে অসীম শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রীকে ডাকাডাকি করলে ফাল্কগ্দুনী দরজা খুলে দেন। এ সময় স্ত্রীকে অতর্কিত ছুরিকাঘাত করেন তিনি। চিৎকার শুনে শ্বশুর, শাশুড়ি ও শ্যালক ছুটে এলে তাদেরও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান অসীম। এতে শেফালী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে।

আলমডাঙ্গা থানার ওসি মুন্সী আসাদুজ্জামান জানান, স্ত্রীকে সন্দেহ করতেন কনস্টেবল অসীম। পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত অসীমকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

কুমিল্লায় জামাতার হাতে শ্বশুর খুন :গতকাল শনিবার সকালে চান্দিনা উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়নের নগরকান্দি গ্রাম থেকে মোহাম্মদ আলীর (৫৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জামাতা ইমাম হোসেনকে দায়ী করেছে নিহতের পরিবার। নিহত মোহাম্মদ আলী নগরকান্দি গ্রামের মোকশত আলীর ছেলে। অভিযুক্ত ইমাম হোসেনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার বিতারা গ্রামে।

নিহতের চাচাতো ভাই ফখরুল ইসলাম জানান, কয়েক মাস ধরে ইমাম হোসেন তার ছোট শ্যালিকা রীমা আক্তারকে তার (ইমাম) ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আসছিল; কিন্তু মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবার এ প্রস্তাব মেনে নেয়নি। এরই মধ্যে রমজান মাসে অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয় রীমার। বিয়ের দিন ঠিক করা হয় ৯ জুন (আজ)। গতকাল সকালে বিয়ের কেনাকাটার জন্য মোহাম্মদ আলী তার এক ভাতিজাকে নিয়ে দোল্লাই নবাবপুর বাজারে যান। সেখানে একটি দোকানে কেনাকাটার সময় শ্বশুরকে ডেকে নেয় ইমাম। এর পর থেকেই তার খোঁজ

পাওয়া যাচ্ছিল না।

এদিকে, দুপুর দেড়টার দিকে নগরকান্দি গ্রামের একটি জমিতে পাড়ার ছেলেরা ক্রিকেট খেলার সময় পাশের খালে মোহাম্মদ আলীকে পড়ে থাকতে দেখে। তারা তাকে উদ্ধার করে দোল্লাই নবাবপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নিলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

চান্দিনা থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল ফয়সল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মোহাম্মদ আলীর মরদেহ উদ্ধারের পর অভিযুক্ত ইমাম হোসেনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।