মাদ্রাসার দখল নিয়ে ফের দু'পক্ষে উত্তেজনা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় বাবুস সালাম মাদ্রাসার আধিপত্য ও দখলদারিত্ব নিয়ে সংঘর্ষের পর দু'পক্ষের মধ্যে ফের টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘাত এড়াতে এলাকায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন পুলিশ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

গতকাল শনিবার সরেজমিনে জানা গেছে, যে কোনো সময় আবারও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিমানবন্দর থানার ওসি নুরে আজম মিয়া জানান, এলাকায় যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত আছে পুলিশ। বাবুস সালাম মাদ্রাসা ও মার্কেট ঘিরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার ওই মাদ্রাসার আধিপত্য ও দখলদারিত্ব নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মোতোয়ালি সৈয়দ মোস্তাক হোসেন রতন ও অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী ওই সংঘর্ষে যোগ দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সংঘর্ষে সৈয়দ রতন গুরুতর আহত হয়ে  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানায়, ওই ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসা ও মার্কেটের আবাসিক হোটেল-রেস্তোরাঁসহ প্রায় ২৪-২৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। প্রতি মাসে ওই মাদ্রাসা ও মার্কেটের লাখ লাখ টাকা আয় আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে মাদ্রাসা মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী বাদী হয়ে অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা করেন আদালতে। পুলিশ জানায়, এসব মামলার তদন্ত চলছে।

এ ব্যাপারে বিমানবন্দর পুলিশ বক্সের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে জানান, শুরু থেকেই বাবুস সালাম মাদ্রাসা ও মার্কেট নিয়ে বিতর্ক চলছে। এর আগেও এই প্রতিষ্ঠান ঘিরে একাধিকবার সংঘর্ষ ও রক্তপাতের ঘটনা ঘটে। আবার আধিপত্য ও দখলদারিত্ব নিয়ে মোতোয়ালি ও অধ্যক্ষ দু'গ্রুপের মধ্যে নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রতিহত ও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

সংশ্নিষ্ট দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজলুল হক নান্নু জানান, দু'গ্রুপের সংঘর্ষের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মাদ্রাসা মার্কেটের সাধারণ ব্যবসায়ীরা। এ ব্যাপারে আহত রতনের ভাগ্নে মোবারক হোসেন জানান, হাসপাতালে মামা (রতন) চিকিৎসাধীন থাকার কারণে মামলা করতে বিলম্ব হচ্ছে।